সূর্য আহমেদ মিঠুন - রমজানের বিকেল। সূর্য ঢলে পড়ছে, শহরের ব্যস্ততা একটু একটু করে নরম হচ্ছে। ঠিক সেই সময়ই কিছু তরুণ স্বেচ্ছাসেবী হাতে খাবারের প্যাকেট নিয়ে ছুটে যান রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে। তাদের লক্ষ্য একটাই, যারা রোজার শেষে ইফতারের নিশ্চয়তা পায় না, তাদের পাশে দাঁড়ানো।.
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বন্ধুত্বের বাংলাদেশ’ এ বছরও পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও পথচারীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে। নিজেদের অর্থায়ন, প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তা এবং স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে প্রায় চার থেকে পাঁচ শত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজনের বড় অংশটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিভিন্ন এলাকা ও হাদী চত্তরে।.
সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী সমর আলী জানান, এটি একদিনের আয়োজন নয়। প্রতি মাসে তারা নিয়মিত চারটি কার্যক্রম পরিচালনা করেন, দুটি খাবার বিতরণ এবং দুটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। তাদের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পথশিশু, নিম্নআয়ের মানুষ ও সমাজের অবহেলিত অংশ।
স্বেচ্ছাসেবী সুজন হাসান বলেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু আন্তরিক হন, তাহলে অনেক শিশুর জীবন বদলে যেতে পারে। রমজান ও ঈদের আনন্দ তখন কেবল সচ্ছল পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে সবার মাঝে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো কার্যক্রম স্বেচ্ছাশ্রম ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। তারা সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, মানবিক উদ্যোগে যার যা সামর্থ্য, তা নিয়ে এগিয়ে আসুন।
একটি ইফতারের প্যাকেট হয়তো ক্ষণিকের তৃপ্তি দেয়, কিন্তু তার ভেতরে থাকে সম্মান, যত্ন আর ভালোবাসার বার্তা। ‘বন্ধুত্বের বাংলাদেশ’-এর এই প্রয়াস মনে করিয়ে দেয়, সহমর্মিতাই পারে সমাজকে আরও ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক করে তুলতে।.
.
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: