• ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

নৌকার রাজপথ কাঁপানো মিজান যেভাবে হলেন বিএনপির ত্যাগী নেতা


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:০৬ পিএম;
নৌকার রাজপথ কাঁপানো মিজান যেভাবে হলেন বিএনপির ত্যাগী নেতা
নৌকার রাজপথ কাঁপানো মিজান যেভাবে হলেন বিএনপির ত্যাগী নেতা

নাসির মাহমুদ (লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি): তিনি যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলেরই অন্ধ ভক্ত বনে যান। ১৭ বছর বুক ফুলিয়ে নৌকার মিছিল-মিটিং কাঁপানো সেই ব্যক্তিই ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপির ‘ত্যাগী’ নেতা। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মিজানুর রহমান। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি এখন ব্যাপকভাবে পরিচিত ‘বহুরূপী মেম্বার’ নামে।
ক্ষমতা ও নিজের সুবিধা ধরে রাখতে বারবার রাজনৈতিক আদর্শ পরিবর্তন করা এই জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।.

 .


১৭ বছর নৌকার মাঝি, ৫ আগস্টের পর বিএনপির ‘কান্ডারি’
অনুসন্ধানে জানা যায়, মিজান প্রথমে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর রাতারাতি সুর বদলে ফেলেন। এরপর থেকে গত ১৭ বছরে বিএনপি যখন মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে এলাকাছাড়া, তখন মিজান আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে জীবনবাজি রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। ২০১৭ সালের ইউপি নির্বাচনে খোদ ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে নৌকার দালালি করার অসংখ্য ছবি এখন স্থানীয় নেতাকর্মীদের ফেসবুক দেওয়ালে ভাসছে।
রাতপাল্টানো রূপ ও অবৈধ সম্পদের পাহাড়
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মিজানের রূপ আবারও বদলে যায়। কোনো ধরনের মামলা বা হয়রানির শিকার না হওয়া এই ‘হাইব্রিড’ নেতা মুহূর্তের মধ্যেই বিএনপির বড় ত্যাগী নেতা সেজে বসেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বাগিয়ে নেন ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ।
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং মেঘনার অবৈধ বালুর ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বড়খেরী ইউনিয়নে নিজের ভাই, ছেলে ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ নিজের আত্মীয়-স্বজনদের নামে ২০টি হতদরিদ্রের কার্ড হাতিয়ে নিয়েছেন এই বহুরূপী মেম্বার।
তৃণমূলে ক্ষোভ: আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন
এদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক এই সক্রিয় কর্মীর আকস্মিক ‘বিএনপি সাজার’ নাটক দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়খেরী ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"যে লোক গত ১৭ বছর প্রকাশ্যে নৌকার ভোট করেছে, সে এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে খাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ইউপি নির্বাচনে সে নাকি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চায়। এমন হাইব্রিড ও সুযোগসন্ধানীকে যদি দল থেকে সমর্থন দেওয়া হয়, তবে বড়খেরী ইউনিয়ন বিএনপিতে তীব্র বিভক্তি ও বিদ্রোহ দেখা দেবে।"
জনগণের স্বার্থের চেয়ে নিজের পকেট ও প্রভাব ভারী করা এই 'বহুরূপী' মিজানের আসল রূপ নিয়ে এখন রামগতি উপজেলার রাজনীতিতে কৌতূহল আর সমালোচনার ঝড় বইছে। শেষ পর্যন্ত এই ডিগবাজি খাওয়া নেতার শেষ কোথায়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।.

 . .

ডে-নাইট-নিউজ /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ