• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

সিভিট গাছ কাটার অভিযোগ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার দাবি স্থানীয়দের


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:২২ পিএম;
সিভিট গাছ,  কাটার অভিযোগ,  বন বিভাগের,  কর্মকর্তাদের,  সম্পৃক্ততার দাবি,  স্থানীয়দের
সিভিট গাছ কাটার অভিযোগ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার দাবি স্থানীয়দের

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেলখোলা জুমকাটা এলাকায় কয়েকটি মূল্যবান মাদার ট্রি ও বিরল প্রজাতির সিভিট গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম ব্যবহার করে এসব গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ার দীঘি বনবিটের আওতাধীন তেলখোলা এলাকায় বদু হেডম্যানের ছেলে জামাল উদ্দিন ও আবদু ছালাম প্রকাশ ছালোর দখলীয় বসতভিটার পাশ থেকে একটি গর্জন গাছসহ কয়েকটি মূল্যবান মাদার ট্রি এবং তিনটি সিভিট গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।.

 .

এলাকাবাসীর দাবি, সিভিট গাছ বর্তমানে বিরল প্রজাতির বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত এবং ধীরে ধীরে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের গাছ নিধন অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের অফিসের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গাছগুলো কাটা হয়েছে।.

 .

এ ঘটনায় রাজারকুল রেঞ্জের ট্রেনিং কর্মকর্তা আবিউজ্জামান ও আবু রায়হানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। আবদু ছালাম প্রকাশ ছালো বলেন, "গাছগুলো একদিনে কাটা হয়নি। যারা গাছ কাটছে, তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা রেঞ্জ অফিসের কথা বলেছে।.

 .

" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নারী বলেন, "এত বড় বড় গাছ কাটার সাহস সাধারণ মানুষের নেই। যারা গাছ কাটছে, তারা সবাইকে বলছে গাছগুলো রেঞ্জ অফিসের জন্য কাটা হচ্ছে।" অভিযোগের বিষয়ে দারিয়ার দীঘি বনবিট কর্মকর্তা শিহাব ইরফান বলেন, "প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যেসব গাছ কাটা হয়েছে, সে সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। পরে আরও একটি গাছ কাটার খবর পাই। তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি, একটি গাছ ফরিদুল আলম নামের এক ড্রাইভারের বাড়িতে রাখা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে গাছটি উদ্ধার করা হয়।.

 .

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি গাছ কাটার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকে, তাহলে বন বিভাগের নজরদারি কোথায় ছিল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতে বা সহযোগিতা ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ কাটা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।.

 .

স্থানীয়দের ভাষ্য, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও কার্যালয়ের কঠোর নজরদারির অভাব এবং কথিত প্রশ্রয়ের কারণেই সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ও বিট পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সাহস পাচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।.

 .

এ বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে কেটে ফেলা দুটি গাছ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।.

 .

" এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের মতে, বিরল ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ নিধনের এ ঘটনা শুধু বন আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্যও একটি বড় হুমকি। তাই দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।.

Compose

.

ডে-নাইট-নিউজ /

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ