• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

ভয়ংকর প্রতারক বাবলুর প্রতারণার শিকার শতাধিক মানুষ!


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৫৭ পিএম;
ভয়ংকর প্রতারক বাবলুর প্রতারণার শিকার শতাধিক মানুষ!
ভয়ংকর প্রতারক বাবলুর প্রতারণার শিকার শতাধিক মানুষ!

চলেন দলবল নিয়ে, করেন প্রতারণা আর সেই প্রতারণা করে গ্রামের চা দোকানদার থেকে হয়ে গেছেন কোটিপতি "বাবলু"। নাম আশরাফুল আলম বাবলু, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের মোঃ রবিউল আলম মোল্লার ছেলে আশরাফুল আলম বাবলু। যদিও আমাদের কাছে প্রমাণ এসেছে আশরাফুল আলম বাবলুর এই নাম পরিচয় সঠিক না, তার আসল নাম মোঃ আহসান হাবিব বাবলু পিতা মোঃ আব্দুল আজিজ মোল্লা। কিন্তু এই প্রতারক সব মহলে আশরাফুল আলম বাবলু নামে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে বেড়াই যাতে করে কেউ আইনের সাহায্য নিলে তাকে সঠিকভাবে ফাঁসাতে না পারে।.

 .

আশরাফুল আলম বাবলু বলে বেড়াচ্ছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে তার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে এবং সে টাকা থেকে ২৫০০/- হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ছাড়পত্র দিয়ে গুলশান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে পাঠিয়েছে। এমন একটা চিঠি গত দেড় বছর ধরে আশরাফুল আলম বাবলু বিভিন্ন মহলে দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সহযোগিতায় সেই চিঠি একজনের কাছে থেকে অন্য জনের মোবাইলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পাশাপাশি আইএফআইসি ব্যাংকের করা একটি ১০০ কোটি টাকার পে অর্ডার সে চিঠির মত ঘুরে বেড়াচ্ছে।.

 .

আর এই চিঠি দেখে কিছু মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা ছাড়িয়ে এনে দিবে মর্মে বাবুলের সাথে দেখা করে চলছে, প্রতারক বাবলু সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের সাথে বিভিন্ন চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে। অপর দিকে আশরাফুল আলম বাবলু টাকা কামানোর সুযোগ বুঝে ৫০% থেকে ৮০% দিয়ে দিবে মর্মে মৌখিকভাবে মানুষকো লোভ দেখিয়ে প্রতরনা করছে এবং সে বলে যে আপনি একাই ৫০%-৮০% নিয়ে নিবেন তাই আমাকে আগে কিছু খরচপাতি দেন, এই কাজ করতে গেলে দুদক সহ বিভিন্ন জায়গায় টাকা খরচ করতে হবে, কাজ হওয়ার পর সে টাকা কেটে নিয়ে নিয়েন। এভাবে বাবলু ২/৩/৫/১০/২০/৩০/৪০ লাখ এমনকি দেড় / দুই কোটি টাকা পর্যন্ত আগে নিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । এভাবে প্রতারণা করে টাকা কামিয়ে এই প্রতারক আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে।.

 .

ঢাকা সুবাস্তু এলাকায় এক বাসিন্দা মোঃ স্বপন মিয়া জানান আইএফআইসি ব্যাংকে একটি ১০০ কোটি টাকার প্রে-অর্ডার আমার কাছে আসছিলো পরে যাচাই-বাছাই করে এটা ভুয়া প্রমাণ পায় এবং এই কাজ করতে আমার কাছে থেকে বাবুল কয়েক হাজার টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।.

বাড্ডা এলাকার আরেক বাসিন্দা শওকত নামের এই ব্যাক্তি বলেন তার চিঠি নিয়ে আমি বেশ কিছু দিন এখানে ওখানে গিয়েছি এবং টাকা পয়সা খরচ করার পর সব কিছু ভুয়া পায়, আশরাফুল আমার কাছে থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়, পরে ফোন দিলে কল রিসিভ করে না।.

 .

রংপুর থেকে মশিউর রহমান (৩৫) নামের এক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন যে, আশরাফুল আলম বাবলু ও তার সহকারি চক্র আমার কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় , এখন টাকা চাইলে উল্টো হুমকি ধামকী দেয়।..

 .

অভিযোগ করেন রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জাহাঙ্গির আলম (৪০), তিনি বলেন, প্রতারক আশরাফুল আলম বাবলু ও তার সহকারি আকাব্বর আলী, ফুলচান, ফিরোজ, ফারুক, বোরহান, মাছুদ পারভেজ গংরা আমার কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় । আশরাফুল আলম বাবলু গংরা আমাকে ভূয়া চিঠি ও ভূয়া তথ্য দিয়ে এই টাকা হাতিয়ে নেয়, তিনি আরও বলেন তাদের খপ্পরে কেউ পরলে টাকা না দিয়ে বাঁচাতে পারে না, মানুষকে তারা ভুলবাল বুঝিয়ে টাকা নিয়ে বিপদে ফেলে লাপাত্তা হয়ে যায় । তিনি আরও বলেন আশরাফুল আলম বাবলু শিকর অনেক গভীরে।.

 .

পাবনা এলাকার এক বাসিন্দা হাজি জলিল বয়স ৬৫, ওনি বলেন একই কায়দায় বাবলু আমার কাছে থেকে একলাখ বিশ হাজার টাকা লোভ দেখিয়ে নিয়ে নেয়।.

পাবনা এলাকার আরেক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে বাবলু আমার মোবাইলে একটা চিঠি পাঠায় এবং সে চিঠিতে দুটো ব্যাংক একাউন্ট এর নম্বর দেখতে পায় এবং বাবলুর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে আমি আবার পাঠাচ্ছি আসল চিঠি, এবার সে একটা ভুয়া একাউন্ট এডিট করে চিঠি পাঠালে, যাচাই-বাছাই করে এটা ভুয়া পাওয়া যায়, একই ভাবে বাবলু আরেকবার চিঠি পাঠালে সেখানে স্পষ্ট এডিট করার প্রমাণ পাওয়া যায়। তখন বাবলু আমার মোবাইলে একটা ম্যাসেজ পাঠাই এবং সেখানে ২৫০০/- কোটি টাকা লেখা দেখায় গুলশান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কিন্তু সে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নাম্বার ও ইসলামী ব্যাংকের হেল্পলাইন নাম্বার এখান থেকে রিমুভ না করে এভাবেই রেখে দেই শুধু টাকা আর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের শাখা ও নাম খানা এডিট করে দে। সবকিছু ধরা খাওয়ার পর আশরাফুল আলম বাবলু আর আমার ফোন রিসিভ করে না।.

 .

ঢাকা সাভার এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি আমাদেরকে জানান যে একই পন্থায় আশরাফুল আলম বাবলু সাভার এলাকা থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এখন আর তাকে এই এলাকায় দেখা যায় না এবং ফোন দিলে বিভিন্ন মহল থেকে উল্টো হুমকি ধামকি দেয় ।.

 .

আশরাফুল আলম বাবলু নিজ এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ইমরান নামে এক ব্যক্তি সশরীরে হাজির হয়ে জানান যে আশরাফুল আলম বাবলু ভুয়া ম্যাগনেট পিলার ও ভুয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেই। আমি তাকে একবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তার বাড়ি থেকে ভুয়া ম্যাগনেট পিলার সহ গ্রেফতার করাই কিন্তু আশরাফুল আলম বাবলু অদৃশ্য শক্তির বলে একদিন পরে থানা থেকে ছাড় পেয়ে যায়। এখন এই বাবলু আমার টাকা না দিয়ে বিভিন্ন ফন্দি ফেকির করে বেড়াচ্ছে। আশরাফুল আলম বাবলুর প্রতারণা করার আরো কয়েক ডজন প্রমাণসহ প্রতারণা আমাদের কাছে আছে। .

 .

উক্ত ভুয়া চিঠি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে গেলে সেখানে এক সিনিয়র কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই করে জানান যে, চিঠিতে লেখা সারক নম্বর ভুয়া এবং আশরাফুল আলম বাবলুকে বাংলাদেশ ব্যাংক এমন কোন চিঠি দেন নাই। তিনি আরও বলেন এমন চিঠি দেখে কেউ প্রতারণার শিকার না হয়ে, প্রতারক বাবলুকে আইনের হাতে তুলে দিতে বলেন।.

 .

আপনারা সবাই এই ভয়ংকর প্রতারক থেকে সাবধান থাকবেন এবং তাকে যেখানেই পাবেন প্রতিহত করবেন অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিরের হাতে তুলে দিবেন।. .

ডে-নাইট-নিউজ /

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ