সূর্য আহমেদ মিঠুন - স্টাফ রিপোর্টার : যে ছড়াগুলো একসময় দেয়ালে লেখা হয়েছিল প্রতিবাদের ভাষা হয়ে, যে ছড়াগুলো মিছিলে মিছিলে স্লোগানে পরিণত হয়েছিল- সেই সব ছন্দ এখন ধরা পড়েছে বইয়ের পাতায়। ২০২৪ সালের আন্দোলনের স্মৃতি, বেদনা ও সংগ্রামের গল্প নিয়ে প্রকাশিত হলো ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ সংকলন।.
শুক্রবার বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের শামসুর রহমান হল-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।.
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম, ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক, কবি জাকির আবু জাফর, জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ, সৈয়দ আল ফারুক ও কবি হাসান আলীমসহ বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিক।
সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন কবি আবিদ আজম এবং সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কবি জিয়া হক। এতে স্থান পেয়েছে প্রায় ৩১৩ জন ছড়াকারের লেখা, যেখানে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ইতিহাস ছন্দের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।.
বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় দেয়ালে দেয়ালে লেখা ছোট ছোট ছড়া মানুষের মুখে স্লোগান হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ছড়াগুলোই আন্দোলনের শক্তি ও সাহস জুগিয়েছিল সাধারণ মানুষকে।
ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যেই “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিফলন” শীর্ষক একটি প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশ করেছে, যা এই ঐতিহাসিক সময়কে নথিভুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা।
বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, আন্দোলনের সময় মানুষের কণ্ঠে ছড়িয়ে পড়া ছড়াগুলো গণআন্দোলনের শক্তিকে উজ্জীবিত করেছিল। তাঁর মতে, এসব ছড়া আরও আগে সংকলিত করা গেলে আন্দোলনের নথি হিসেবে তা আরও সমৃদ্ধ হতো।
অনুষ্ঠানে কবি আতিক হেলাল বলেন, ছড়াকে আলাদা সংকলনে প্রকাশ করার বিষয়টি নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। তাঁর মতে, কবিতা সংকলনের সঙ্গে ছড়াগুলোও একসঙ্গে প্রকাশ করা গেলে সাহিত্যিক ঐক্য আরও সুস্পষ্ট হতো। কারণ আন্দোলনের প্রাণশক্তির একটি বড় অংশ ছিল এই ছড়াগুলো।
জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ কেবল একটি সাহিত্য সংকলন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি সাংস্কৃতিক দলিল হয়ে থাকবে।
সংকলনের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করতে গিয়ে কবি শামস আরেফিন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ইতিহাস শুধু মিছিলের গল্প নয়। এটি লেখা হয়েছে মানুষের রক্ত, কান্না ও আত্মত্যাগে। সেই ইতিহাসই কবিতা ও ছড়ার মাধ্যমে নতুন এক শিল্পরূপ পেয়েছে।
সংকলনে একত্রিত হয়েছেন বিভিন্ন প্রজন্মের ছড়াকার। অগ্রজদের মধ্যে রয়েছেন আবু সালেহ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, ফারুক হোসেন, আব্দুল হাই শিকদার, শাহীন রেজা, হাসান হাফিজ, এনায়েত রসুল, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, শাহাবুদ্দীন নাগরী ও টোকন ঠাকুর।
পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের ছড়াকারদের মধ্যে রয়েছেন আবিদ আজম, আমির খসরু সেলিম, আরিফ বখতিয়ার, আহমদ সাইফ, এমরান কবির, কামাল হোসাইন, পলিয়র ওয়াহিদ, মঈন মুনতাসীর, মনসুর আজিজ, মুহিম মাহফুজ, শাকিল মাহমুদ, সাম্য শাহ, সুমন রায়হান ও সুজন হাসানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত ছড়াকাররা নিজেদের লেখা ছড়া আবৃত্তি করেন। সেই আবৃত্তিতে ফিরে আসে আন্দোলনের দিনগুলোর উত্তাপ, স্বপ্ন আর প্রতিরোধের স্মৃতি।
প্রতিবাদের ছন্দ, স্মৃতির শব্দ আর ইতিহাসের অনুরণন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ হয়ে উঠেছে এক সময়ের জীবন্ত দলিল।.
.
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: