• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

সিসিটিভি প্রকল্পে ৩ লাখের খেলা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:২৫ পিএম;
সিসিটিভি প্রকল্পে ৩ লাখের খেলা  উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
সিসিটিভি প্রকল্পে ৩ লাখের খেলা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারের নামে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় সিসিটিভি স্থাপন প্রকল্পকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ দাবি করেছে, সরকারি বরাদ্দের বাইরে গিয়ে প্রতি ইউনিয়ন থেকে অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি বিল স্বাক্ষরে চাপ প্রয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।.

 .

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যাবে।.

 .

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদর উপজেলার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি হিসেবে ১১৫টি কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা। নির্বাচন কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে ২ থেকে ৬টি ক্যামেরা বসাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩২ হাজার ৮০০ টাকা।.

তবে অভিযোগ উঠেছে, বাকি ৮৪টি কেন্দ্রের জন্য ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের ১ শতাংশ কর তহবিলের মাধ্যমে ইউনিয়নপ্রতি ৩ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।.

 .

 .

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল হিসেবে অর্থ উত্তোলন করা হয়। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জাহেদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানাতে ঊর্ধ্বতন অনুমতির প্রয়োজনের কথা বলেন।.

 .

অন্যদিকে, একাধিক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সচিব অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী তৌহিদুল ইসলাম ইউএনওর নাম ব্যবহার করে এই অর্থ সংগ্রহ করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলেও তারা দাবি করেন।.

 .

এছাড়া বিলে স্বাক্ষর দিতে অনীহা প্রকাশ করলে পদ হারানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।.

 .

 .

দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের সচিব গাজী আব্বাস উদ্দিন বলেন, “৮ ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছ থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। অন্য ইউনিয়নগুলোতেও একইভাবে অর্থ আদায় করা হয়েছে। এখানে পরিষদের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না।”.

টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিন জানান,.

“আমার ইউনিয়নে মাত্র চারটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, অথচ তিন লাখ টাকা দিতে হয়েছে। প্রায় সব ইউনিয়নেই একই অবস্থা।”.

প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আরও প্রশ্ন.

অভিযোগ রয়েছে, কিছু কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন না করেও কাগজে কাজ সম্পন্ন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণ ও ব্যয়ের বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়ায় সন্দেহ আরও বাড়ছে।.

 .

 .

অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “১১৫টি কেন্দ্রের জন্য সরকার বাজেট দিয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে বাজেট না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই কাজ করা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”.

 .

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা দাবি করেন, “প্রকল্পটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।”.

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া বলেন, “আইনশৃঙ্খলা কমিটির অনুমোদনক্রমে ইউনিয়নের ১ শতাংশ তহবিল থেকে অর্থ নেওয়ার নির্দেশনা ছিল। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হবে।”.

 . .

ডে-নাইট-নিউজ /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ