• ঢাকা
  • বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৮ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ওয়াজেদ সিন্ডিকেট জমি রেজিস্ট্রি করতে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৪৬ পিএম;
সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ওয়াজেদ সিন্ডিকেট জমি রেজিস্ট্রি করতে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা
সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ওয়াজেদ সিন্ডিকেট জমি রেজিস্ট্রি করতে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা

 .

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমি সরকারী ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। দলিল লেখক সমিতির কথিত সভাপতি ওয়াজেদ আলী খার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অফিসে রামরাজত্ব কায়েম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। সাবরেজিষ্ট্রারের নাম ব্যবহার করে এই অর্থ আদায় করা হলেও কোন প্রতিকার পায় না জমি ক্রেতা বিক্রেতারা।হরিণাকুন্ডু শহরের চিথলীপাড়া গ্রামের হাসান (ছদ্ম নাম) অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি জমি রেজিস্ট্রির সময় তার কাছে ওয়াজেদ আলী আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন। অনেক দেনদরবারের পর এক লাখ টাকায় রফা হয়।নারায়নকান্দি গ্রামের লিয়াকত আলী বলেন, শ্বাশুড়ির নামে থাকা জমি স্ত্রীর নামে হস্তান্তরের পর বিক্রির সময় কাগজপত্রে নানা ত্রুটির কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। “সরকারি ফি’র বাইরে বড় অঙ্কের টাকা না দিলে কাজ হয় না” অভিযোগ তার।আব্দুস সালাম নামে এক ভুক্তভোগী জানান, প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত রেজিস্ট্রি দিবসে বিপুলসংখ্যক মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে এলে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন সভাপতি ওয়াজেদ আলী ও তার নিয়োজিত লোকজন। কয়েকজন দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়াজেদ আলী এজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। অথচ তিনি প্রায় ১৬/১৭ বছর ধরে জোরপুর্বক টাকা আদায় করে নিজের আখের গুছিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এতই গুটিবাজ যে আওয়ামীলীগের আমলেও সভাপতি সেজে হারাম অর্থ কামিয়ে গেছেন। এখন তিনি বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।.

 .

হরিণাকুন্ডু পৌর বিএনপির সভাপতি জিন্নাতুল হক খান জানান, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী খা বিএনপির কোন পদে নেই। দলের নাম ভাঙ্গি তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে শুনেছি। তিনি বলেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা এই অনৈতিক কাজ করবেন তাদের অচিরেই প্রতিহত করা হবে। তানিয়া খাতুন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, হরিণাকুন্ডু সাবরেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। নইলে জমি রেজিস্ট্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তেই থাকবে।অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রার মোমিন মিয়ার নাম ভাঙিয়েও অর্থ আদায় করা হয়। যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবরেজিস্ট্রার মোমিন মিয়া বলেন, “সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ আমার নাম ব্যবহার করলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।”দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে তিনদিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে জেলা রেজিস্ট্রার সাব্বির আহম্মেদ বলেন, “সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিদারুল আলম মঙ্গলবার বিকালে জানান, সরকারী ফি’র বাইরে তো টাকা নেওয়ার কথা নয়। যদি এমন অনৈতিক লেনদেন করেই থাকেন তবে সাবরেজিষ্টার তো প্রতিকার করতে পারেন। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।. .

ডে-নাইট-নিউজ /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ