লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে বহুল আলোচিত এক উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ অমান্য ও সময়ক্ষেপণের অভিযোগে বিবাদীপক্ষের দাবি ‘স্ট্রাক আউট’ (খারিজ) করে বাদীপক্ষের পক্ষে ডিক্রি দিয়েছেন আদালত।.
রায়ে আদালত ঘোষণা করেছেন, ২নং বিবাদী আয়শা মনি মৃত আব্দুল মান্নানের ঔরসজাত কন্যা নন এবং তার ত্যাজ্য সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার দাবি করতে পারবেন না।.
.
লক্ষ্মীপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. সাইফুল আলম চৌধুরী সম্প্রতি এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দেং-৬১/২০২১ (শওকত আকবর গং বনাম সাবিনা ইয়াছিমনি সুইটি) হিসেবে বিচারাধীন ছিল।.
.
মামলার মূল বিরোধ ছিল—২নং বিবাদী আয়শা মনি মৃত আব্দুল মান্নানের ঔরসজাত কন্যা কিনা। বিষয়টি নির্ধারণে আদালত পূর্বেই ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। ২০২২ সালের ৩১ মে দেওয়া সেই আদেশ পরবর্তীতে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা হলেও তা বহাল থাকে। বিবাদীপক্ষের আপিল, রিভিশন ও লিভ টু আপিল খারিজ হয়।.
.
আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে মৃত আব্দুল মান্নানের কবর খনন করে দেহাবশেষ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে ২ নম্বর বিবাদীর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার The National Forensic DNA Profiling Laboratory (এনএফডিপিএল)-এ জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল।.
সময়ক্ষেপণ ও অসুস্থতার অজুহাত.
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, বিবাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ২নং বিবাদীর নমুনা প্রদান এড়িয়ে গেছেন এবং বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ শুনানিতে ১নং বিবাদীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করা হয়। তার পক্ষে একটি নোটারীকৃত আমমোক্তারনামার ফটোকপি ও চিকিৎসা সনদ দাখিল করা হয়।.
তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী ওই আমমোক্তারনামার তারিখে অসামঞ্জস্য ও ওভাররাইটিংয়ের অভিযোগ তোলেন। আদালত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখেন, পূর্ববর্তী একাধিক তারিখে ১নং বিবাদী নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে অসুস্থতার অজুহাতে সময়ের আবেদন করা হয়।.
চিকিৎসা সনদে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ থাকলেও তার কোনো প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। ফলে আদালত মনে করেন, ডিএনএ পরীক্ষা এড়াতেই বিবাদীপক্ষ সচেতনভাবে সময়ক্ষেপণ করছেন।.
.
আইনি ভিত্তিতে দাবি খারিজ করে আদালত রায়ে সাক্ষ্য আইন ১১৪ ধারার উদাহরণ (g) উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজনীয় প্রমাণ ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থাপন না করলে আদালত অনুমান করতে পারেন যে, সেই প্রমাণ সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে যেত। সে বিবেচনায় আদালত ধরে নেন, ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হলে ফলাফল বিবাদীপক্ষের প্রতিকূলে যেতে পারত।.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারা, Order XI Rule 21 ও 23 এবং Order IX Rule 12 অনুযায়ী আদালত বিবাদীপক্ষের দাবি ‘স্ট্রাক আউট’ ঘোষণা করেন। বিবাদীপক্ষ বাদীর সাক্ষীকে জেরা না করায় বাদীর দাবি প্রমাণিত বলে গণ্য হয়।.
ফলস্বরূপ আদালত ঘোষণা দেন— বাদীপক্ষ মৃত আব্দুল মান্নানের ত্যাজ্য সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ।.
২নং বিবাদী আয়শা মনি মৃত আব্দুল মান্নানের ঔরসজাত কন্যা নন।.
তিনি ওই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী নন।.
.
রায়ে আরও বলা হয়, মৃত আব্দুল মান্নানের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার উপযোগী হলে তা যথাযথ ল্যাবরেটরিতে প্রেরণ করা হবে। আর ২ নম্বর বিবাদীর নমুনা না পাওয়ায় পরীক্ষা সম্পন্ন সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট নমুনা ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী সংরক্ষণ করতে হবে।.
.
আদেশের অনুলিপি এনএফডিপিএল, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার, লক্ষ্মীপুর বরাবরে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।.
.
আইনজীবী মহলের মতে, আদালতের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ অমান্য ও সময়ক্ষেপণের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এ রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।.
.
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: