• ঢাকা
  • সোমবার, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৬ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

বিজয়নগরে 'ভুয়া র‍্যাব' সিন্ডিকেট ও মাদক গডফাদারদের নেপথ্য জাল


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:০৬ এএম;
বিজয়নগরে 'ভুয়া র‍্যাব' সিন্ডিকেট ও মাদক গডফাদারদের নেপথ্য জাল
বিজয়নগরে 'ভুয়া র‍্যাব' সিন্ডিকেট ও মাদক গডফাদারদের নেপথ্য জাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর 'ভুয়া র‍্যাব' পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে।.

র‍্যাব-৯-এর তড়িৎ ও বিচক্ষণ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার মূল রহস্য এবং প্রকৃত অপরাধীর চেহারা।
প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় আটক হওয়া অমর সানি মুন্সিকে নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়ালেও, দীর্ঘ তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে সসম্মানে মুক্তি দিয়েছে র‍্যাব-৯।.

 .


সানি মুন্সি সাংবাদিকদের জানান, বন্ধু মিঠুন তাকে অত্যন্ত আকুতি-মিনতি করে এবং প্রায় জোরপূর্বক সাথে নিয়ে গিয়েছিল।
মিঠুনের অবান্তর ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। র‍্যাব তার নির্দোষিতা খুঁজে পাওয়ায় তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।.

 .


ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং ভুয়া র‍্যাব পরিচয়দানকারী মিঠুনকে শনাক্ত করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় মিঠুনের কাছ থেকে নিষিদ্ধ মাদক (স্কফ সিরাপ) এবং কোমরে থাকা ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়, যা ব্যবহার করে সে নিজেকে র‍্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাত ও চাঁদাবাজি করত।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিঠুন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ছদ্মবেশে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।.

 .


সাংবাদিকদের হাতে আসা বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে তাকে প্রতারণার ফন্দি আঁটতে দেখা গেছে।
​অভিযোগ রয়েছে, সিংগারবিল ইউনিয়নের মেরাশানী গ্রামের জসিম খার মাদক স্পটকে কেন্দ্র করেই মিঠুনের এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল।
অর্থাৎ, একদিকে মাদক ব্যবসা এবং অন্যদিকে ভুয়া পরিচয় দিয়ে সেই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি—উভয়ই চলত সমান্তরালে।.


র‍্যাব-৯-এর এই সফল অভিযানে মূল অপরাধী মিঠুন গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও বিজয়নগর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।
বিশেষ করে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে এমন দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় বিট অফিসার বা থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকার পাইকারি মাদক বিক্রেতারা কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, তা নিয়ে প্রশাসনের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন এলাকাবাসী।.

 .


অমর সানি মুন্সির মুক্তি এবং মিঠুনের গ্রেফতার প্রমাণ করে যে, অপরাধী যত কৌশলীই হোক না কেন, শেষ রক্ষা হয় না। তবে মিঠুনের মতো "ভুয়া পরিচয়ধারী" অপরাধীদের নেপথ্যে যারা বড় মাদক সিন্ডিকেট চালাচ্ছে, তাদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বিজয়নগরে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসা কঠিন।
মিঠুনের অপরাধের আমলনামা এবং তার সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের রাঘববোয়ালদের নিয়ে খুব শীঘ্রই আরও বিস্তারিত ও ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।. .

ডে-নাইট-নিউজ /

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ