লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে যেতে শুরু করেছে। একদিকে বিএনপি তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া, অন্যদিকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও জামায়াতে ইসলামী। এবার বিএনপির এই দুর্গে ভাগ বসাতে বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের 'হাতপাখা' ও জামায়াতের 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের প্রার্থীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।.
হেভিওয়েটদের লড়াই ও ঐতিহ্যের আসন.
উপকূলীয় এই আসনটি 'হেভিওয়েটদের আসন' হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন করেছেন আ স ম আবদুর রব, কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা, জমির আলী এবং মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের মতো জাঁদরেল নেতারা। ১টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন (রামগতি ও কমলনগর) নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার।.
চতুর্মুখী লড়াই ও প্রার্থীর জনপ্রিয়তা.
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে নারী ভোটার ও তরুণ প্রজন্মের ভোট হবে প্রধান চাবিকাঠি। লড়াই হবে মূলত চতুর্মুখী।.
জোট ও সমর্থন বদলের হাওয়া.
সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের রেদওয়ান উল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজানকে সমর্থন দিয়ে মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এটি বিএনপির শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।.
ভোটারদের প্রত্যাশা.
সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এলাকার উন্নয়ন এবং ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের নিশ্চয়তা চান। বিশেষ করে নারীদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং বিপদে-আপদে পাশে পাওয়া যাবে এমন প্রার্থীকেই তারা বেছে নিতে চান।.
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের বড় একটি ভোটব্যাংক ও নতুন ভোটাররা কোন দিকে ঝোঁকেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়ের চূড়ান্ত ফলাফল। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে, আর ভোটাররা ব্যস্ত প্রার্থী বাছাইয়ের গভীর চিন্তায়।. .
ডে-নাইট-নিউজ / নাসির মাহমুদ (লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি):
আপনার মতামত লিখুন: