প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: জন্মদিনে প্রিয়জনদের শুভেচ্ছার পাশাপাশি সাফল্যের উপহার পেলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর শিক্ষককন্যা বিথী রায়। ১০ আগস্ট জন্মদিনের সকালে প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জনে জন্মদিন হয়ে থাকলো একটি স্মরণীয় দিন। এতে জন্মদিনের আনন্দ রূপ নেয় দ্বিগুণ উচ্ছ্বাসে। তার এই কৃতিত্বে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। ফল প্রকাশের পর থেকেই স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী ও পরিচিতজনদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন বিথী।.
.
বিথী রায় ফুলবাড়ী পৌর এলাকার দক্ষিণ সুজাপুর সকাল বাজার এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ রায় ও গৃহিণী ও হোমিও চিকিৎসক সান্তনা রায়ের দ্বিতীয় কন্যা। নারী সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা কংকনা রায়ের সহোদরা তিনি। বিথী স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইন্সটিটিউট থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন।.
শুধু পড়াশোনাতেই নয়, সৃজনশীল কাজেও রয়েছে বিথীর উপস্থিত সরব। শিক্ষার্থীর পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন শৈল্পিক কারিগর হিসেবেও পরিচিত। নিজের সৃজনশীল কাজকে ঘিরে পরিচালনা করছেন অনলাইন পেজ ‘কৃপায়িনী ও পাতা’। পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প ও সৃজনশীলতার চর্চা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার।.
জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) ছিল বিথী রায়ের জন্মদিন। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের জন্মদিনের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জন্মদিনের আনন্দ ছাপিয়ে পরিবারের সবার মনোযোগ গিয়ে ঠেকে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিকে। ফল প্রকাশের সময় যত ঘনিয়ে আসছিল, ততই বাড়ছিল বিথী, তার বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের উৎকণ্ঠা। অবশেষে সকাল ১০টায় ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আসে কাক্সিক্ষত সেই সুখবর বিথী রায় অর্জন করেছেন জিপিএ-৫। মুহূর্তেই উৎকণ্ঠা রূপ নেয় বাঁধভাঙা আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে। স্বজনদের অভিনন্দন আর আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবার। জন্মদিনের শুভেচ্ছার সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের অভিনন্দন। মেয়ের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা। তাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ, গর্ব আর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্নের ছাপ।.
.
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবা ব্রজেন্দ্রনাথ রায় বলেন, মেয়ের এমন সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার জন্মদিনেই জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর আমাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, জীবনে একজন ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিথী যেন তার মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মানুষের উপকারে আসতে পারে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।.
বিথী রায় বলেন, জন্মদিনে জিপিএ-৫ পাওয়ার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত কিছুটা উৎকণ্ঠা ছিল। ফল প্রকাশের পর যখন জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর নিশ্চিত হয়, তখন মনে হয়েছে এর চেয়ে সুন্দর জন্মদিনের উপহার আর হতে পারে না।.
তিনি বলেন, আমার এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা, শিক্ষক এবং পরিবারের সদস্যদের অনেক অবদান রয়েছে। তারা সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।.
সাংবাদিক কংকনা রায় জানান, পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া উৎসাহ ও শিক্ষকদের সহযোগিতা তার আত্মবিশ^াস বাড়িয়েছে।
বিথীর এই সাফল্যে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এসএসসির এই সাফল্যকে পুঁজি করে উচ্চশিক্ষার পথেও বিথী তার মেধা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখবেন।
.
.
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: