• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ২৩ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

ক্যাপসিকাম চাষে লাভবান বিশ্বনাথের একাধিক চাষী


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:১৩ পিএম;
ক্যাপসিকাম চাষে লাভবান বিশ্বনাথের একাধিক চাষী
ক্যাপসিকাম চাষে লাভবান বিশ্বনাথের একাধিক চাষী

ক্যাপসিকাম ( মিষ্টি মরিচ) ফসলের সাথে সকল কৃষকের পরিচয় নেই। ধীরে ধীরে পরিচয়ের পাশাপাশি এটি চাষাবাদে ঝুঁকছেন বিশ্বনাথের চাষীরা। ফসলটি মুলত মেক্সিকো, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও স্পেনের। এখন দক্ষিণ এশিয়া সহ সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যাপক হারে বাংলাদেশে ও এখন চাষ হচ্ছে। মরিচের মত দেখতে এটি সবজি হিসেবে রান্না করে খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ছোট মাছের সাথে তরকারি, সবজি ও সালাদ করে ও খাওয়া যায় এটি। .

এছাড়া সঠিক পরামর্শ এবং পরিচর্চায় কম জমিতে অধিক পরিমাণে ফসল উৎপাদন করে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়। দিনদিন এর চাহিদা বাড়ায় কৃষকেরা ক্যাপসিকাম আবাদে ঝুঁকছেন। .

বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে এবছর উপজেলায় প্রায় ৪ হেক্টর ভূমিতে ক্যাপসিকামের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৫০ থেকে ৬০ মেট্টিকটন ফসল উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ দরে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে খরছের পরিমান ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা হলেও আয় করা যায় আড়াই লক্ষ টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার ক্যাপসিকাম গাছ লাগানো যায়। একটি গাছ হতে ৩ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা হয়। এটি দোআঁশ মাটিতে ও রবি মৌসুমে আবাদের উপযোগী এবং তুলনামূলক ভাল উৎপাদিত হয় বলে জানা যায়। .

ক্যাপসিকাম (মিষ্টি মরিচ) আবাদের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও প্রণোদনা সহায়তা করা হয় কৃষকদের। এবছর উপজেলায় ক্যাপসিকামের একাধিক প্রদর্শনী মাঠ রয়েছে। মালচিং পদ্ধতিতে টাইগার জাতের বীজ দিয়ে রোপা এসকল ক্যাপসিকামের মাঠ ঘুরে উৎপাদনের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। কথা হয়েছে একাধিক কৃষকের সাথে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সকল চাষীরাই লাভের মুখ দেখছেন। গাছ ভর্তি ফল থেকে কাচা পাকা ফল তুলে বিক্রি করছেন হাটবাজার ও জেলা উপজেলার বাজারগুলোতে। এভাবে গাছ না মরা পর্যন্ত তারা ফসল তুলবেন। বর্তমান বাজার মূল্য রয়েছে ১৫০ টাকার উপরে প্রতি কেজি।.

ক্যাপসিকাম নিয়ে কথা হয় উপজেলার নোয়ারাই গ্রামের অলক দেব, দীপু দাস, মদনপুর গ্রামের সুমন চন্দ্র ও জনি ভূষণ দাসের সাথে। তারা সবাই ১ বিঘা থেকে দুই বিঘা পর্যন্ত জমিতে ক্যাসপিকাম আবাদ করেছেন। জনি ভূষণ এ পর্যন্ত ২ লক্ষ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। আরো ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকার বিক্রি করার মত ফসল তার বাগানে রয়েছে। তিনি জানান, এটি দোআঁশ মাটিতে সবচেয়ে ভাল উৎপাদিত হয় এবং ভাল দামে বিক্রি হওয়ায় খরচের চেয়ে চার গুণ বেশি আয় হবে তাঁর। এটি চাষ করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। .

উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নে এবছর ক্যাপসিকামের আবাদ বেড়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এর আবাদ। উপজেলা কৃষি অফিস পরামর্শের পাশাপাশি কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। যেসকল চাষীরা ক্যাপসিকাম আবাদে আগ্রহী তারা পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। . .

ডে-নাইট-নিউজ / মো. সায়েস্তা মিয়া

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ