লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি গরু বাজারের ইজারা দরপত্র আহবানের পর তা আবার স্থগিত করা হয়েছে। তবে সেখানে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমি অফিসের তহসিলদারকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। খাস আদায়ে রশিদও ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বাজার বসিয়ে হাসিলের নামে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। একাধিক বাজার বসলেও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি টাকা। প্রশাসনের এমন কার্যক্রমে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। .
.
এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বাহার আলী মোল্লারহাটে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ৩ জন ব্যবসায়ী জানায়, উপজেলা প্রশাসন সাবেক ইজারাদার হারুনুর রশিদ হাওলাদারকে দিয়ে গরু বাজার থেকে হাসিল উত্তোলন করছেন। যেখানে বাজার বসানো হয়েছে সেটিও হারুন হাওলাদারের। সিন্ডিকেট করে অর্থ লোপাটে অসৎ উদ্দেশ্যেই প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে বড় বাজার। প্রতি হাটে এখানে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকার হাসিল আদায় হয়। তবে সব নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাওছার। .
.
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোল্লারহাট বাজারের সীমানা নির্ধারণ না করেই ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করে উপজেলা প্রশাসন। এতে অংশ নিয়ে মনির হোসেন নামে একজন সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হয়। সকল কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে ইজারা স্থগিতের বিষয়টি জানায়। এতে উল্লেখ করা হয় ইজারা নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এজন্য আগামি ৬ মাসের জন্য ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। .
.
অন্যদিকে শনিবার (২ মে) মোল্লারহাটে গরু বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাবেক ইজারাদার হারুন হওলাদারের মালিকানাধীন জমিতে গরু বাজার বসানো হয়েছে। এতে হারুনের লোকজন টেবিল বসিয়ে হাসিল আদায় করছে। এর একপাশে বসে ছিলেন চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একজন অফিস সহায়ক মফিজুল ইসলাম। প্রতিটি গরু থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা ও ছাগলের জন্য প্রায় ৫০০ টাকা হাসিল আদায় করা হয়। এরজন্য চর বংশী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত একটি রশিদও দেওয়া হচ্ছে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী সরবরাহকৃত রশিদে ভূমির বিবরণ (মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর), জমির পরিমাণ, সেলামির পরিমাণ এবং যে সময়ের জন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে সেটির বাংলা সন স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না। ক্রমিক নাম্বারও দেখা যায়নি। ছিল না স্বাক্ষরদাতার সীলমোহর। এসব জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।.
.
কয়েকজন গরু ক্রেতা বলেন, একেকটি গরুতে প্রায় ২ হাজার টাকা করে হাসিল দিতে হচ্ছে। এটি অনেক বেশি। এতে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। .
.
ইজারায় প্রাথমিকভাবে মনোনীত সর্বোচ্চ দরদাতা মনির হোসেন বলেন, ৯ মার্চ দরপত্র খোলা হয়। এতে আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হই। কিন্তু ২২ এপ্রিল ইউএনও স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয় ৬ মাসের জন্য ইজারা স্থগিত এবং অপেক্ষা করার জন্য আমাকে আহবান জানায়।.
.
হারুনুর রশিদ হাওলাদার বলেন, আমার মালিকানাধীন জমিতে গরু বাজারের কার্যক্রম চলছে। উপজেলা প্রশাসন আমাকে এর জন্য ভাড়া দেবেন। মাত্র দুটি হাট গেছে। এখনো ভাড়ার টাকার পরিমাণ নির্ধারণ হয়নি। .
.
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাওছার বলেন, দরপত্র কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বাজারের একটি অংশের ওয়াকফ জমি নিয়ে দায়েরকৃত রিটের প্রেক্ষিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা হাতে পাই। এ কারণে ইজারা স্থগিত করে খাস উত্তোলন করা হচ্ছে। কাউকে সর্বোচ্চ দরদাতা ঘোষণা করা হয়নি। তড়িঘড়ি করে তহশিলদার রশিদ ছাপিয়েছেন। কোন ভুল থাকলে তা ঠিক করা হবে। বাজার থেকে কত টাকা আদায় হয়েছে, কতো করে হাসিল আদায় হচ্ছে, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। .
.
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বাহার আলী মোল্লারহাটের (আদালত কর্তৃক নির্ধারিত ও ওয়াকফ এস্টেটের জায়গা ব্যতিত) গরু বাজারের দরপত্র আহবান করা হয়। বাজারের ইজারামূল্য ৬৫ লাখ টাকা ধার্য্য করে উপজেলা প্রশাসন। এতে ৩ জন দরপত্র দাখিল করেন বলে জানা গেছে। .
. .
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: