লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক বৃদ্ধর জমি দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এমনকি জমির মালিকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে তারা। .
এদিকে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিরোধীয় জমিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও সেটি মানছেনা অভিযুক্তরা। এতে করে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।.
.
ভুক্তভোগী বৃদ্ধ হলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের খিল বাইছা এলাকার মৃত মমিন উল্লাহর ছেলে সাহাব উদ্দিন। অভিযুক্তরা একই এলাকা মৃত ছেরাজল হকের ছেলে মনির হোসেন ও তার ছেলে রাকিব হোসেন সহ আরও কয়েকজন। .
.
জানা গেছে, সাহাব উদ্দিন অভিযুক্তদের নির্যাতনের কারনে ছোটবেলায় বাড়ি থেকে ফেনীতে চলে যান। এরপর থেকে, জোর-জবরদস্তি করে জমিগুলো দখলে নেয় তারা। তার কোন ভাই কিংবা স্বজন না থাকায় মনিরদের এসব অন্যায়ের কেউ প্রতিবাদ করেনি। তবে গত কয়েক বছর পূর্বে নিজ মালিকানা জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হন। তখন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যা এখনো চলমান রয়েছে। .
আরও জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা জমিতে বিল্ডিং নির্মাণের চেষ্টা করছে মনির হোসেন ও তার ছেলেরা। বিষয়টি সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সাহাব উদ্দিন। এতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুলিশের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে, নির্মাণ কাজ করেন অভিযুক্তরা। .
.
অভিযুক্ত মনির হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন বলেন, বিরোধীয় জমিটি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করছি। এখন বিল্ডিং নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এতে কয়েক বছর ধরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। এতে নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বিল্ডিং নির্মাণ কাজ করছি। .
.
সাহাব উদ্দিন বলেন, ছোটবেলায় মা-বাবা মারা যাওয়ার পর মনির হোসেনদের অত্যাচার-নির্যাতনের ফলে জীবন বাঁচানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। আপন কোন ভাই বা স্বজন না থাকায় স্থানীয় কেউ নির্যাতনের প্রতিবাদ করেনি। ফলে বাড়িতে না থাকায় মনির হোসেন, নজির আহমেদ সহ অন্যারা সম্পত্তি দখলে নিয়ে নেয়। .
.
আরও বলেন, সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও লাভ হয়নি। পরবর্তীতে আদালতে মামলা করি। আদালত মামলায় প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওরা নির্মাণ কাজ করে। এছাড়া সদর মডেল থানায়ও একটি অভিযোগ দিয়েছি। ওই অভিযোগেও পুলিশ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বললেও তারা কাজ বন্ধ রাখেনি। এছাড়াও তারা আমাকে মারধর ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কেউ আবার কিছু টাকা নিয়ে চলে যেতে বলছে। .
এবিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না ঘটে সে জন্য কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।. .
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: