মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা। হাত বাড়ালেই অলিগলিতে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা ফেনসিডিল সহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। নেশায় ডুবছে কিশোর কিশোরী ও যুবসমাজ। নেশার টাকা যোগাড় করতে মাদকাসক্তরা চুরিচামারি মত কাজে লিপ্ত হচ্ছে। দিনদিন বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। ১৫ এপ্রিল উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পশ্চিম ধলিপাড়া গ্রামের মাদকাসক্ত মিজানুর রহমান নামের এক যুবকের কুড়ালের আঘাতে নিহত হয়েছেন শাহ আলম নামের এক মাজারে খাদেম। নামকাওয়াস্তে পুলিশের ধরপাকড় নিয়ে সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন না হলে কঠিন পরিণতিতে ভুগবে উপজেলাবাসী এমন মন্তব্য বোদ্ধামহলের।.
.
উপজেলা জুড়ে নেশাদ্রব্য সেবনের আধিক্য বেড়ে যাওয়ায় আতংকিত অভিভাবকরা। দোষারোপ করছেন স্থানীয় প্রশাসনকে। সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের দাবী পুলিশ প্রশাসনের নমনীয়তায় যত্রতত্র বেড়েছে মাদকের সেবন ও বেচাকেনা। .
.
উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন স্পষ্টে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বেচাকেনা নিয়ে জোরালো হচ্ছে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ। প্রশাসন সক্রিয় হলে এর ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার আশা রয়েছে এমন জল্পনা কল্পনা শুনা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখে।.
.
সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের গোলচন্দ বাজার ও লামাকাজী পয়েন্ট হয়ে বিশ্বনাথ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মাদক প্রবেশ করছে। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জের দিঘলী, জগন্নাথপুর থেকে বিশ্বনাথ রোডে বিশ্বনাথ পৌর শহরে, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা থেকে দৌলতপুর ইউনিয়ন হয়ে বিশ্বনাথে এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা থেকে কামাল বাজার হয়ে বিশ্বনাথে এসব মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।.
.
উপজেলায় মাদক স্পষ্টের শীর্ষে রয়েছে লামাকাজী সিলেট সুনামগঞ্জ রোডের আশপাশের এলাকা, বিশ্বনাথ পৌরশহর ও উপজেলার নয়াসৎপুর এলাকা। এছাড়া উপজেলার প্রীতিগঞ্জ বাজার, পরগনা বাজার, আমতৈল বাজারের আশপাশ এবং রামপাশা বাজার এলাকা সহ বিভিন্ন স্পষ্টে দেদারসে মাদক পাওয়া যায়। .
.
সম্প্রতি উপজেলার উত্তর সীমান্ত গোলচন্দ বাজারে একটি মানববন্ধন থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ উঠে। এরপর গত ১৮ এপ্রিল ভোর রাতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৬০০ পিস ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। ওই দিন আরো একাধিক অভিযান চালিয়ে পরোয়ানা ভুক্ত মাদক মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫ এপ্রিল নয়া সৎপুর এলাকার দুই নারী মাদক কারবারী এবং ১৬ তারিখ আরো দুই মাদক কারবারীকে আটক করলে জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে থানা প্রশাসন। এই সপ্তাহকে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের মাদক বিরোধী এ্যাকশন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে পুলিশ প্রশাসনকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন অনেকেই। তবে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবী তুলেছেন তারা।.
.
মাদক নির্মূলে পুলিশের অব্যাহত অভিযান পরিচালনা ও রাত্রিকালীন পুলিশের টহল বাড়ানোর পরামর্শ বিশিষ্টজনের। লামাকাজী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় ইদানীং মাদকের ব্যাপকতা বেড়েছে, পুলিশ প্রশাসন আরো দায়িত্বশীল না হলে মাদক সেবন ও অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। রাত্রিকালীন টহল জোরদার করতে হবে। ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জিসু আচার্য্য বলেন, শিশু কিশোররাও ইদানীং মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে। এদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হচ্ছে দিনদিন। লামাকাজীর পয়েন্টগুলোতে দিনরাত পুলিশ থাকার পরও সাধারণ মানুষের হাতে মাদক কি করে আসে ভেবে পাই না! .
.
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার বলেন, মাদকদ্রব্য সেবনের মাত্রা অতিমাত্রায় পৌঁছেছে। এর লাগাম টেনে ধরা দরকার। আমার ইউনিয়নের কোনকোন স্থানে মাদকের আস্তানা রয়েছে তা পুলিশ অবগত আছে, আশা করি পুলিশ চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে সকল চিহ্নিত মাদকসেবিদের আইনের আওতায় আনবে। গত কয়েক দিনে একাধিক মাদক কারবারীকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। পুলিশের অভিযান অব্যাহত না রাখলে এই ভয়াবহতা মোকাবেলা করা অসম্ভব হবে।.
.
গত কয়েক দিনে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের অভিযানে একাধিক মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। মাদকসেবী ও মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ কাজ করছে এমনটি জানিয়েছেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান। .
.
. .
ডে-নাইট-নিউজ / মোঃ সায়েস্তা মিয়া, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধিঃ
আপনার মতামত লিখুন: