সংবাদ দাতা : দীর্ঘদিন ধরে বনের সংরক্ষিত জমি দখল দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের এক প্রকার ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।.
.
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের অধীন রাজারকুল রেঞ্জের আপাররেজু বনবিট ও দারিয়ার দীঘি বনবিট এলাকায় বনের জমিতে প্রজা বসিয়ে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, বরং নীরব ভূমিকা পালন করছে।.
.
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত বনভূমিতে শতশত পানের বরজ গড়ে উঠেছে। এসব বরজ থেকে নিয়মিতভাবে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজারকুল (রেঞ্জ ট্রেনিং) কর্মকর্তা অভিউজ্জমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই এই অর্থ আদায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পানের বরজ শুরু করতে হলে প্রথমেই বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা দিতে হয়, এরপর প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয় চাষিদের।.
.
এছাড়াও “ভ্যালিজার” নাম ব্যবহার করে ব্যক্তি প্রতি ২০, ৩০ এমনকি ৫০ হেক্টর পর্যন্ত বনভূমি দখলে দিয়ে সেখান থেকেও লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মাসের শুরুতেই এসব ভ্যালিজারদের কাছ থেকে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা আদায় করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।.
.
অভিযোগ রয়েছে, মাসের শুরুতে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছে মোজাফফর নামে এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে ফরেস্ট গার্ডরাও অংশ নেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রেঞ্জ কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশেই এই টাকা তোলা হয় এবং বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ্য গোপন সত্যে পরিণত হয়েছে।.
.
দারিয়ার দীঘি বনবিট ও আপার রেজু বনবিটের বিস্তীর্ণ এলাকায় আনুমানিক ৭০০ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ ভ্যালিজারদের দখলে। তাদের কাছে বনভূমি ছেড়ে দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন রাজারকুল রেঞ্জ ট্রেনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমান—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।.
.
সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এভাবে টাকা আদায় চললেও কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল-মামুন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ফরেস্ট গার্ড দাবি করেছেন, এই আদায়কৃত টাকার একটি অংশ ডিএফও কার্যালয়েও পৌঁছায়।.
.
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠলেও তা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে, যা প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।.
.
পান চাষিরা জানান, তারা পানের বরজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বরজ শুরু করতে হলে প্রথমেই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অগ্রিম টাকা দিতে হয়। এরপর প্রতি মাসে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এই অর্থ না দিলে বরজ চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক চাষি এই অনিয়মের সঙ্গে আপস করে চলছেন।ল.
.
তাদের আরও অভিযোগ, পানের বাজার দর কমে গেলে বা নির্ধারিত টাকা সময়মতো দিতে না পারলে শুরু হয় নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও তথাকথিত নাটকীয় অভিযান। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।.
.
আপাররেজু বনবিটের অন্তর্ভুক্ত হাতিরডেবা, জাফর হেডম্যানের ফিশারির আশপাশের এলাকা, চিকন ঘোনা, ১০ নম্বর পাহাড়ের উভয় পাশ, জুম্মাপাড়া, লাম্বাঘোনা, মগচর, মৌলভীবাজার দক্ষিণপাড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপকভাবে পানের বরজ স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে দারিয়ার দীঘি বনবিটের পাইন বাগান স্টেশনের পশ্চিম পাশ, গোটা বনিয়া, কেচুয়া বনিয়া, খেদার ঘোনা, ছাদিরকাটা, ছনখোলা-সহ রিজার্ভ ফরেস্টের বিশাল এলাকায়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসব জায়গা থেকে জবরদখলের মাধ্যমে মাসিক চাঁদা আদায় করে লাখ লাখ টাকা আয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।.
.
এই পরিস্থিতিতে বনভূমি ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয়দের ওপর চলমান আর্থিক ও মানসিক নিপীড়ন নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে বনভূমি রক্ষা পায় এবং সাধারণ মানুষ এই ধরনের হয়রানি থেকে মুক্তি পায়।.
.
রেঞ্জ ট্রেনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমানের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। .
.
এবিষয়ে জানতে চাইলে ডিএফও আব্দুল্লা আল মামুন সাংবাদিকদের লিখত অভিযোগ দায়ের করতে দিতে বলেন। .
. .
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: