রিপোর্ট :রুমান খাঁন :ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার কাজীপাড়া দর্গা মহল্লায় ড্রেন নির্মাণে এবার ভয়াবহ কারিগরি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না করেই জমে থাকা ময়লা পানির ওপর সরাসরি সিমেন্টের ঢালাই দিচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ড্রেনের ভেতরের তলা বা সারফেস মসৃণ (Finishing) হচ্ছে না, যার ফলে ভবিষ্যতে ড্রেনটি স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।.
.
সরেজমিনে দেখা গেছে, ড্রেনের গর্তে জমে থাকা হাঁটু সমান পচা পানির ওপরই শ্রমিকরা ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী পাম্প দিয়ে পানি সেচে শুকনা অবস্থায় ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও এখানে তার উল্টো চিত্র। পানির নিচে ঢালাই হওয়ার কারণে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ঠিকমতো বসছে না। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, ড্রেনের ভেতর কোনো 'ফিনিশিং' করা হচ্ছে না। প্রকৌশলীদের মতে, ড্রেনের ভেতরটা মসৃণ না হলে সেখানে পলি, মাটি ও ময়লা-আবর্জনা আটকে যাবে। ফলে ড্রেনটি দ্রুতই ভরাট হয়ে যাবে এবং পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
এলাকাবাসীর দাবি, কোটি টাকা খরচ করে যে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, তা শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ছে। তদারকি করার মতো কোনো প্রকৌশলী সাইটে না থাকায় শ্রমিকরা খামখেয়ালিভাবে কাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, “পানির মধ্যে এভাবে ঢালাই দিলে তা কতদিন টিকবে? আর ভেতরটা যদি অমসৃণ থাকে, তবে কয়েকদিন পর ময়লা আটকে ড্রেন উপচে পানি আমাদের ঘরে ঢুকবে। তখন এই দায় কে নেবে?”
অভিযোগ রয়েছে, ড্রেনের নকশা বারবার পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট কিছু মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। বেরতলা মেনশনসহ বেশ কিছু ভবনের ভিত্তি এখন নড়বড়ে। ড্রেনের ভেতর দিয়ে পানি চলাচলের স্বাভাবিক ঢাল (Slope) না রেখে উঁচু-নিচুভাবে কাজ করায় পানি নিষ্কাশনের পরিবর্তে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পৌরসভার এই বিশাল বাজেটের প্রকল্পে এমন ‘তুঘলকি কাণ্ড’ দেখে সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে পানি সেচে পুনরায় মানসম্মতভাবে ঢালাই নিশ্চিত করতে হবে। ড্রেনের ভেতরের অংশ যাতে পুরোপুরি মসৃণ হয়, সেদিকে নজর না দিলে এই ড্রেন উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করবে।
এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই ড্রেন সংস্কার করতে গিয়ে সরকারকে আবারও বড় অংকের অর্থ অপচয় করতে হবে। জনস্বার্থে পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।.
.
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: