.
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে প্রবাসী পূত্রের নামে সরকার কর্তৃক বন্দোবস্তকৃত ভূমিতে মাটি কাটা ও দখলের পায়তারার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন মা। .
রোববার (১৮ জানুয়ারী) উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর (মৌলভীরগাঁও) গ্রামের মৃত আফতাব আলীর স্ত্রী ও প্রবাসী ফয়জুর রহমানের মা ফুলমালা বেগম ডিসি বরাবরে স্মারকলিপিটি দায়ের করেন। যার ডকেট নং ৩৩ (১৮.০১.২৬ইং)।.
.
উপজেলার মৌলভীরগাঁও মৌজার জেএলনং ৫৩ স্থিত ১নং খতিয়ানের ১৯৩০ দাগের .৬২ একর ভূমি ‘ভিপি কেস নং ০৯/২০০৪-০৫ইং’ মূলে সরকার কর্তৃক বাদী ফুলমালা বেগমের প্রবাসী পুত্র ফয়জুর রহমান বন্দোবস্ত পেয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে দাবী করেছেন প্রবাসীর মা। .
.
স্মারকলিপিতে প্রবাসীর মা ফুলমালা বেগম উল্লেখ করেছেন, উপরোক্ত তপশীল বর্ণিত ভূমি ‘ভিপি কেস নং ০৯/২০০৪-০৫ইং’ মূলে সরকার তাঁর (ফুলমালা) প্রবাসী পুত্র ফয়জুর রহমান বরাবরে বন্দোবস্ত প্রদান করেন। পুত্র প্রবাসে থাকায়া বর্তমান সময়ে তাঁর বাড়িতে কোন পুরুষ লোক না থাকায় তিনি অতিশয় বয়োঃবৃদ্ধ হওয়ায় কাজের লোক দ্বারা উক্ত তপশীল বর্ণিত ভূমি’সহ নিজেদের বাড়ি-ঘর দেখাশুনা, শাসন-সংরক্ষণ করে আসছেন। কিন্তু বিগত ২১.১২.১২.২৫ ইংতারিখে সকাল ০৮.০০ ঘটিকার দিকে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া তাকে (ফুলমালা) প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে উপজেলার চৈতননগর গ্রামের মৃত আফতাব আলীর পুত্র আজিজুর রহমান সুরত, মৃত তাইদ উল্লাহ’র পুত্র নজির উদ্দিন, মৃত রইছ উল্লাহ’র পুত্র ইব্রাহিম আলী সিজিল ও মীরেরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র আবুল কালাম’সহ ৫০/৬০ জন তাঁর (ফুলমালা) বসতবাড়িতে প্রবেশ করে মারধরের চেষ্টা করে। এসময় বাড়ির গেইট লাগিয়ে তিনি রক্ষা পান। এব্যাপারে তিনি বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। .
স্মারকলিপিতে প্রবাসীর মা ফুলমালা বেগম আরোও উল্লেখ করেছেন, এছাড়া বিগত সময়ে উক্ত অভিযুক্তরা তাঁর বাড়ি সংলগ্ন সরকারের মালিকানাধীন ও তাঁর প্রবাসী পুত্র ফয়জুর রহমানের নামে বন্দোবস্তীয় উক্ত তপশীল বর্ণিত ভূমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে বেআইনি মিলিত হয়ে তাদের (ফুলমালা) রুপনকৃত প্রায় ৩০০/৪০০ বৃক্ষাদি কাটিয়া উক্ত তপশীল বর্ণিত ভূমিতে পাঁকা পিলার বসাইয়া পাঁকা বাউন্ডারী নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ওই তপশীল বর্ণিত ভূমির মধ্যখান দিয়ে তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্থাও রয়েছে। উল্লেখিত ব্যক্তিগণ পেশী শক্তি খাটিয়ে উক্ত রাস্থা’সহ সমূহ ভূমির মাটি কাটিয়া নেয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবী মতে উপরোল্লিখিত ব্যক্তিগণ কর্তৃক তপশীল বর্ণিত ভূমিতে পাঁকা পিলার বসিয়ে গাছ-গাছালি কেটে নেয়ার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ’সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচারিত হয়েছে। তপশীল বর্ণিত ভূমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন ভূমি, সেহেতু উক্ত ভূমিতে সরকারের স্বত্ব, স্বার্থ জড়িত থাকায় তাহা রক্ষা করার দায়িত্ব এবং দেখা-শুনা, শাসন, সংরক্ষণ করা একান্ত আবশ্যক। অন্যথায় উক্ত তপশীল বর্ণিত ভূমি সরকারের সম্পত্তি হইতে বেদখল হয়ে উল্লেখিত ব্যাক্তিগণের হেফাজতে চলে যাবে। তাই সরকারের বৃহৎ স্বার্থে উপরোক্ত তপশীল বর্ণিত ভূমিতে উল্লেখিত অভিযুক্তরা যাহাতে পাঁকা দেয়াল নির্মাণ করতে বা মাটি কাটতে না পারে সে ব্যপারে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃস্টি কামনা করেছেন প্রবাসীর মা ফুলমালা বেগম।.
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবী করে অভিযুক্ত ইব্রাহিম আলী সিজিল বলেন, আমাদের জানামতে ওই ভূমির মালিক সুরত। সরকারের সাথে মামলা লড়ে তিনি নিজের পক্ষে রায়ও পেয়েছেন। তাই তিনি (সুরত) তার জায়গায় কি করবেন না করবেন সে উনার ব্যপার, এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। তাই আমাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়রাণী করা ছাড়া আর কিছুই নয়।.
. .
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: