রিপোর্ট রুমান৷ খাঁন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ‘বাইখালী খাল’ ভরাট হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৫টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।.
খালের ৩ কিলোমিটার এলাকা ভরাট হয়ে যাওয়ায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর কৃষি জমির সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা বর্তমানে হুমকির মুখে। এলাকার সচেতন নাগরিক সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের চন্দেরচর, সোনাপাড়া, শ্যামনগর, বাগাউড়া এবং মহলা গ্রামগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। এই এলাকার কৃষকরা তিতাস নদী থেকে উৎপন্ন বাইখালী খালের ওপর নির্ভর করে তাদের আবাদি জমিতে সেচ কাজ পরিচালনা করেন। .
.
কিন্তু বর্তমানে খালের ০.০০০ কিমি থেকে ৩.০০০ কিমি পর্যন্ত এলাকা ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে খালটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, পানি না থাকায় বিএডিসির ২৫ কিউসেক ও ৫ কিউসেক ক্ষমতার পাম্পসহ এলাকার আরও ১২টি ব্যক্তিগত সেচ পাম্প অকেজো হয়ে পড়েছে।
ফলে প্রায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে রবি শস্য ও বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।.
সমস্যা কেবল শুষ্ক মৌসুমেই সীমাবদ্ধ নয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ থাকে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।.
তিতাস নদীতে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই খালটি এখন এলাকাবাসীর জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিরসনে ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের রাজস্ব বাজেটে এই ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে। .
খালটি খনন করা হলে এলাকার নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং নৌপথে সহজে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করা যাবে। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং বিএডিসির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।.
এলাকার কৃষকদের প্রাণের দাবি— দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাইখালী খালের পুনঃখনন কাজ শুরু করে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে রক্ষা করা হোক।.
.
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: