• ঢাকা
  • সোমবার, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডে নিত্যদিনের যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রী-পথচারী


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৪০ পিএম;
সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডে নিত্যদিনের যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রী-পথচারী
সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডে নিত্যদিনের যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রী-পথচারী

সূর্য আহমেদ মিঠুন : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ড যেন যানজটের নিত্যদিনের সঙ্গী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত এই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজট লেগেই থাকছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রী ও পথচারীদের।.


স্থানীয়দের অভিযোগ, জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইউলুপ সংলগ্ন ছোট ওভারব্রিজ, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি না থাকা। ফলে ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।.


স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশেই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। বিশেষ করে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলো নির্দিষ্ট জায়গা না মেনে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় মূল সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। একটি যানবাহন দাঁড়িয়ে গেলে তার পেছনে দ্রুত সারি তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুরো এলাকায় যানবাহনের গতি কমে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।.


পথচারীদের আরও অভিযোগ, ইউলুপের পাশে থাকা ছোট ওভারব্রিজের কারণে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলও অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়। বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশ থেকে আসা যানবাহন, ইউলুপ ব্যবহারকারী গাড়ি এবং যাত্রী ওঠানামা করা অটোরিকশা একই জায়গায় এসে মিলিত হওয়ায় যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।.


নিয়মিত যাত্রীদের ভাষ্য, জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডে যানজট নিরসনে শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালালে হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে অটোরিকশা থামানোর ব্যবস্থা, যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্ধারিত জায়গা এবং সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।.


তাদের মতে, ব্যস্ত সময়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একজন ট্রাফিক পুলিশ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সদস্য নিয়মিত অবস্থান করলে যানবাহনগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ইউলুপ ও ওভারব্রিজ এলাকার যান চলাচল নতুন করে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।.


স্থানীয় এক পথচারী বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানজটে আটকে থাকতে হয়। অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়। কেউ দেখার নেই। ব্যস্ত সময়ে কয়েক মিনিটের পথ যেতে অনেক বেশি সময় লাগে।”.


আরেক যাত্রী বলেন, “বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে। শুধু রাস্তা বড় করলেই হবে না, যানবাহনগুলো কোথায় দাঁড়াবে সেটিও নির্দিষ্ট করতে হবে।”.


স্থানীয়দের দাবি, জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডের যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে অটোরিকশার এলোমেলো অবস্থান বন্ধ, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা, যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্ধারিত স্থান তৈরি এবং ব্যস্ত সময়ে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।.


তাদের প্রত্যাশা, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডের যানজটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে একদিকে যেমন যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে, অন্যদিকে প্রতিদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন হাজারো যাত্রী ও পথচারী।. .

ডে-নাইট-নিউজ /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ