• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ২৩ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

লাভজনক হওয়ায় সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন বিশ্বনাথের কৃষকরা 


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৫৪ পিএম;
লাভজনক হওয়ায় সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন বিশ্বনাথের কৃষকরা 
লাভজনক হওয়ায় সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন বিশ্বনাথের কৃষকরা 

মো. সায়েস্তা মিয়া, বিশ্বনাথ থেকেঃ খরচ ও শ্রম দু'টোই কম। পুরো বছরের পারিবারিক তেলের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্টাংশ বিক্রয় করে ও পাওয়া যায় অর্থ। ফসল ভাল হলে অধিক মুনাফা পাওয়ায় কৃষকেরা অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা অর্জন করেন। সরিষা ভাঙ্গিয়ে তেলের পাশাপাশি খৈল কে জৈব সার হিসেবে করা হয় ব্যবহার। সরিষার গাছকে অনেকেই জ্বালানির কাজে লাগান। এক কথায় অধিক লাভজনক ফসল হচ্ছে সরিষা। এজন্য দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বিশ্বনাথের কৃষকেরা। পরামর্শ ও সরকারি সহায়তা পেলে আগামী বছরগুলোতে সরিষা চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে এমনটিই বলছে পরিসংখ্যান। .

 .

গত বছরের তুলনায় এ বছর বিশ্বনাথে প্রায় ১ শত হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে এমন তথ্য। বর্তমান রবি মৌসুমে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ৫১৫ হেক্টর ভূমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদের পরিমান আরো অনেক বেশি এমনটি আজ ৩০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সরজমিন চিত্রে অনুমান করা গেছে। .

 .

উপজেলার খাজাঞ্চি, রামপাশা ও  অলংকারি ইউনিয়নে সরিষার সবচেয়ে বেশি আবাদ রয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সরিষার মনোমুগ্ধকর হলুদাভ দৃশ্য মন ভুলানোর মত। মাঝে মধ্যে আছে, আলু, টমেটো, বেগুন, কপি ও শাকসবজির হরেক রকমের বাগান। পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক কুল। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ ছিটাচ্ছেন কীটনাশক, কেউ ঘাস নিড়ানিতে সময় পার করছেন। যে সব এলাকায় সরিষার আবাদ বেশি সে সব এলাকার মাঠ পর্যায়ে অনেক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে গত বছরের তুলনায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর বাড়তি চাষে বাড়তি ফসল তুলবেন তারা। এবার উপজেলার ১৮ শত সরিষা চাষীকে ২০ কেজি করে সার ৫ শত কৃষককে ২ কেজি করে সরিষাবীজ সহয়তা দিয়েছে কৃষি দপ্তর। উপকার ভোগীদের অনেকেই স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত সরিষার পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদও করেছেন। ফলনও হয়েছে ভাল। আবাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া সরিষা নিয়ে কৃষকের স্বপ্ন পুরণের দিনক্ষণ আর বেশি দুরে নয়। ইতিমধ্যে অধিকাংশ জমির সরিষা দানা এ মাসেই পেকে যাবে এবং কৃষকেরা কেটে মাড়াই শেষে দানা সংগ্রহ করবেন। তবে অনেক কৃষকের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে কৃষি অফিস ও কৃষি কর্মকর্তাদের উপর। সঠিক পরামর্শ পেতে কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে দেখা পান না তারা। যার কারণে পরিচর্যা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে করণীয় স্থির করতে পারেন না। তারা জানান, বীজ সংকট, পরামর্শ ও প্রণোদনা না পাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত আবাদি জমি থাকার পরও তারা আবাদ করতে পারেন না। প্রণোদনা ও সরকারি সামান্য সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতি করেন জনপ্রতিনিধিরা। পছন্দের লোকজনকে সার, বীজ পাইয়ে দেন। এতে করে জমি থাকছে অনবাদি এবং তারা বঞ্চিত হচ্ছেন অর্থ উপার্জন থেকে। দারিদ্র্যতা দূরীকরণ ও খাদ্য যোগানে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক রবিশস্য উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল থাকায় এসব কৃষকের প্রতি সদয় ও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করার দাবী তাদের। .

 .

অলংকারি ইউনিয়নের ছোট খুরমা গ্রামের আব্দুল জব্বার এ বছর ৭ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। সরকারি সুবিধা পেলে তার আবাদের পরিমান আরো কয়েক বিঘা বেশি থাকতো বলে জানান তিনি। একি দাবী করেন রাউতের গাঁও গ্রামের জামিল আহমদ ও লালটেক গ্রামের আখদ্দুছ আলী।.

 .

বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এবছর সরিষা আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলছেন কর্তারা। পরামর্শ দানে মাঠে না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে মোট ২১ জন উপ-কৃষিকর্মকর্তা নিয়মিত কৃষকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি নিজেও সকল ধরনের পরামর্শ এবং সরকারি সুবিধা কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে গাফেলতি করেন না।.

.

ডে-নাইট-নিউজ /

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ