• ঢাকা
  • বুধবার, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

লক্ষ্মীপুরে সন্তানের পরিচয় সনাক্তে ৫ বছর পর কবর থেকে প্রবাসীর লাশ উত্তোলন


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৪০ পিএম;
লক্ষ্মীপুরে সন্তানের পরিচয় সনাক্তে ৫ বছর পর কবর থেকে প্রবাসীর লাশ উত্তোলন
লক্ষ্মীপুরে সন্তানের পরিচয় সনাক্তে ৫ বছর পর কবর থেকে প্রবাসীর লাশ উত্তোলন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: উচ্চ আদালতের আদেশে লক্ষ্মীপুরে এক শিশু কন্যার পিতৃ পরিচয় সনাক্ত করতে দাফনের প্রায় ৫ বছর পর কবর থেকে আবদুল মান্নান  নামে এক প্রবাসীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। .

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামে ওই প্রবাসীর পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হাসান মোহাম্মদ নাহিদের নেতৃত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার কমলা শীষ রায়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। .

‎নিহত আবদুল মন্নান সোহেল হামছাদি ইউনিয়নের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি পেশায় কুয়েত প্রবাসী ব্যবসায়ী ছিলেন।.

‎.

‎মামলা ও স্থানীয সূত্রে জানা যায় , প্রবাসী আবদুল মান্নান প্রবাসী জীবনে বিপুল সম্পদের মালিক হন। তিনি বিবাহের পূর্বেই হানিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে অপারেশন কালে সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়। ২০০৮ সালে ১লা মে লাহারকান্দি ইউনিয়নের রুহুল আমিনের মেয়ে সাবিনা ইয়াছমিন সুইটিকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর স্ত্রী নিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর প্রবাসে দাম্পত্য জীবনে কোন সন্তান লাভ করতে পারেননি তারা। এজন্য দফায় দফায় চিকিৎসকের দারাস্ত হয়েও ব্যর্থ হন আবদুল মান্নান দাম্পতি। এরপর মৃত্যুর পূর্বে ৪/৫ বছর নানা জটিল রোগ ও খাদ্য নালীতে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ ২ বছর ভারতের এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ডিসচার্জ হয়ে দেশে ফিরেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে ১লা জুন বাংলাদেশের ইবেনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা জান আবদুল মান্নান। এদিকে আবদুল মান্নানের মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পূর্বে স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন সুইটির গর্ভে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এতেই বাঁধে বিপত্তি। মৃত্যুর পূর্বেই আবদুল মান্নান তার আত্মীয় ও এলাকাবাসীকে কন্যা সন্তানটি তার নয় বলে জানিয়ে গেছেন বলে দাবী স্বজনদের। এদিকে  আবদুল মান্নানের মৃত্যুর পর স্ত্রী সুইটি তার গর্ভের সন্তানকে মান্নানের ঔরসজাত সন্তান দাবী করে স্বামী মান্নানের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ সমস্ত সম্পত্তি দখলের পায়তারা চালায়। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নিহত আবদুল মান্নানের মাতা কাজল রেখা, ভাই শওকত, রাজু ও রুমা আক্তার বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি  মামলা দায়ের করেন। এতে আবদুর মান্নানের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সুইটি ও কন্যা সন্তান আয়েশা মনিকে (নাবালিকা) বিবাদী করা হয়। দীর্ঘ শুনানী ও প্রমানের ভিত্তিতে আদালত  বিবাদীর বিরুদ্ধে রায় দেয়। পরবর্তিতে বিবাদী মান্নানের স্ত্রী সুইটি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে  আপিল করলে হাইকোট কন্যা সন্তান আয়েশা মনির পিতৃ পরিচয় সনাক্ত করতে আবদুল মান্নানের লাশ উত্তোলনের আদেশ জারি করেন। এ প্রেক্ষিতে দাফনের সাড়ে চার বছর পর পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। .

‎.

‎নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হাসান মোহাম্মদ নাহিদ বলেন, বিজ্ঞ  আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কবর থেকে আবদুল মান্নানের মরদেহ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি ঢাকার নির্দিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হবে।. .

ডে-নাইট-নিউজ /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ