রমজানে খিরার দাম দ্বিগুণ
ফুলবাড়ীর কৃষকের মুখে হাসি
ইফতারের চাহিদা বাড়ায় বাজারে ৫০-৫৫ টাকা কেজি.
রমজান মাস শুরু হতেই দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে খিরার বাজারে এসেছে চাঙ্গাভাব। কয়েকদিন আগেও যে খিরা প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, রমজান শুরু হওয়ার পর সেই খিরাই এখন প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম দ্বিগুণ হওয়ায় আশানুরূপ মূল্য পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় খিরা চাষিদের মধ্যে। খিরা চাষে ভাগ্য ফেরার আনন্দ যেনো কৃষকের ঘরে ঘরে।.
.
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছরই খিরার চাহিদা থাকলেও রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম উপকরণ হওয়ায় এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ইফতারের টেবিলে সালাদ ও নানা খাবারের সঙ্গে খিরার ব্যবহার বেশি হওয়ায় এই সময় বাজারে এর দামও বেড়ে যায়।
উপজেলার ৬ নম্বর দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক পরীক্ষিত চন্দ্র রায় জানান, তিনি ৫০ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের খিরা চাষ করেছেন। এতে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এ বছর খিরার ফলন ও মান দুটিই ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৮৫ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করেছেন। জমিতে এখনও যে পরিমাণ খিরা রয়েছে, তাতে আরও প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
উপজেলার বুজরুজ সমশেরনগর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, তিনিসহ এলাকার অনেক কৃষক বিভিন্ন জাতের খিরা চাষ করেছেন। শুরুতে দাম কম থাকলেও রমজান শুরু হওয়ার পর বাজারে দাম বাড়তে থাকে। ফলে এ বছর খিরা আবাদ করে অনেক কৃষকই লাভের মুখ দেখছেন।.
.
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, উপজেলার পৌর এলাকাসহ সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে খিরা ও শসার আবাদ হয়েছে। শুরু থেকেই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। গত বছর রমজানে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর কৃষকেরা আগের তুলনায় বেশি জমিতে খিরা ও শসার আবাদ করেছেন।
তিনি আরও জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই না থাকায় এ বছর খিরার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও সন্তোষজনক থাকায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ এলাকায় খিরা ও শসার আবাদ আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
a.
.
ডে-নাইট-নিউজ / প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
আপনার মতামত লিখুন: