মোহা. খোরশেদ আলম: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর মালয়েশিয়া সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলফলক। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর, আর সেই গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া উভয় দেশের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্বেরই প্রতিফলন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের প্রতি যে আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদর্শিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। মধ্যাহ্নভোজ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং যৌথ ব্রিফিং—সবকিছুতেই দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের উষ্ণতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো জনশক্তি রপ্তানি। দীর্ঘদিন ধরে লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমবাজার নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমে তা নিরসনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশাবাদ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আরও সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
তবে এই সফরের তাৎপর্য শুধু শ্রমবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, হালাল শিল্প, পর্যটন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সমঝোতা স্মারক ও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি শক্ত ভিত্তি নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বায়নের এই যুগে অর্থনৈতিক কূটনীতি রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরেই তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ। সেই ইতিহাসে ২০২৬ সালের এই সফর একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে। যদি আলোচিত উদ্যোগগুলো বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে এর সুফল শুধু দুই দেশের সরকার নয়, বরং সাধারণ জনগণ, প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ভোগ করবে।
.
বাংলাদেশের জনগণ আশা করে, এই সফরের মাধ্যমে যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তা আগামী দিনে বাস্তব সাফল্যে পরিণত হবে এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী, ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠবে। এটাই হোক দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের যৌথ অগ্রযাত্রার নতুন অঙ্গীকার।. .
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: