• ঢাকা
  • সোমবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২০ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

বিশ্বনাথে আমনের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে সোনালী হাসি


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০৬ পিএম;
বিশ্বনাথে আমনের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে সোনালী হাসি
বিশ্বনাথে আমনের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে সোনালী হাসি

মো. সায়েস্তা মিয়া, বিশ্বনাথ থেকেঃ কার্তিকের শেষ থেকে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে। শরতের মাঝামাঝি অগ্রহায়ণের শুরুতে পুরোদমে আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে উপজেলা জুড়ে। প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলা জুড়ে এবার আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখে মুখে সোনালী হাসির ঝিলিক বইছে। দিগন্তজোড়া সোনালী ধানের বিস্তৃত মাঠে ধান তোলার উৎসবে ব্যাস্ত কৃষক।  প্রাকৃতিক পরিবেশ অনকুলে থাকায় ধান উপাদানে লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে বলে জানা গেছে উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে। .

 .

এ বছর বিশ্বনাথ উপজেলায় ১৩২৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ সম্ভব হয়েছে। আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪৫১১ মে. টন। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের আমন চাষ হয়েছে ৫০ হেক্টর, উপসী ১০৪৪০ হেক্টর এবং স্থাণীয় জাতের বিভিন্ন প্রকার ২৭৪০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় ছিল। এবছর উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন শ্রেণীর উপকারভোগী মোট ৮১০ জন কৃষক সরকারি সহায়তা পেয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।.

 .

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরজমিন ঘুরে আমন ধান কাটার চিত্র দেখা গেছে । আধুনিক কৃষি যন্ত্রের কারণে এখন ধান কাটা সহজ হয়েছে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে যোগ হয়েছে মেশিনযন্ত্র। শ্রমিক সংকট মোকাবেলা ও সময় সাশ্রয়ে কৃষকেরা এখন ধান কাটার কম্বাইন্ড মেশিন ব্যবহার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন হাওরে একাধিক কম্বাইন্ড মেশিনের উপস্থিতি দেখা গেছে। দেশীয় বীজের সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন হাইব্রীড জাতের বীজ। তাতে উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেকগুণ বেড়েছে বলে কৃষকের দাবী। জোতদার, প্রান্তিক ও বর্গাচাষী কৃষকের ঘোলা এবার ধানে ভরে উঠবে তার একটি নমুনা দেখা যাচ্ছে বিশ্বনাথ উপজেলা জুড়ে।.

 .

বিশ্বনাথে রোপা আমন চাষের বিষয় নিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবার পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকটাই কম ছিল। সময়ে সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফলন খুব ভাল হয়েছে। খাজাঞ্চী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস সোপান জানান, আমি প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ একর জমিতে আমন ধান রোপন করি। অন্যান্য বছরে তুলনায় এবার ফলন বেশি পাবো আশা করছি। বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের বর্গাচাষী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই মৌসুমে তার ৫ একর আমনের আবাদ রয়েছে, যা অন্য বছরের চেয়ে ১ একর বেশি। খরছ পুষিয়ে এবার একটু বেশি লাভের প্রত্যাশা তাঁর। সেবুল মিয়া নামের এক কৃষক জানান ধান চাষে খরচের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। স্থানীয় বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক কম। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দেওয়া সময়ের দাবী। .

 .

উপজেলার সব ক'টি ইউনিয়নে ২০ জন উপ-সহকারি কৃষি অফিসারগণ সার্বক্ষনিক কৃষি পরামর্শের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নে ২ জন, খাজাঞ্চী ইউনিয়নে ৩ জন, অলংকারী ইউনিয়নে ৩ জন, রামপাশা ইউনিয়নে ৩ জন, দৌলতপুর ইউনিয়নে ২ জন, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নে ২ জন, দেওকলস ইউনিয়নে ২ জন, দশঘর ইউনিয়নে ২ জন এবং পৌরসভায় ১ জন। বিশ্বনাথ কৃষি অফিসে মোট ২৪ টি সৃষ্ট কর্মপদ থাকলে ও বাকী পদগুলো শুন্য আছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায়।.

 .

আমন উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন,  প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চারা রোপণ  পরিচর্যায় কৃষকেরা সঠিকভাবে কা করতে পেরেছেন নিজেদের খাদ্য সংকট মোকাবেলায় কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক উৎসাহ প্রদানে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি এবছরের ন্যায় আগামী বছরেও কৃষকেরা তাদের শ্রম ও  কর্মতৎপরতা অব্যাহত রেখে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করবেন।. .

ডে-নাইট-নিউজ /

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ