লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নিখোঁজের দুই দিন পর নুরুল আলম (৩৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকার মেঘনা নদীর তীর সংলগ্ন সিসি ব্লকের ভেতর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।.
নিহত নুরুল আলম কমলনগর উপজেলার সাহেবেরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদার বাড়ির বসির আহম্মদের ছেলে। তিনি পেশায় মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের একজন শ্রমিক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৭ বছর বয়সী কন্যা তানিয়া এবং ৭ মাস বয়সী পুত্র সন্তান তাহসিনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।.
ঘটনার বিবরণ: পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নুরুল আলম বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কমলনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।.
সোমবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নদীর তীরে মাছ ধরতে গিয়ে সিসি ব্লকের ফাঁকে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।.
হত্যার অভিযোগ: নিহতের ফুফাতো ভাই মো. রাকিব জানান, নুরুল আলমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে কেউ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীর ব্লকের ভেতর ফেলে দিয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।.
পুলিশের বক্তব্য: কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।. .
ডে-নাইট-নিউজ / নাসির মাহমুদ (লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি):
আপনার মতামত লিখুন: