• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ০৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

নোয়াখালীতে বর্গাচাষীর ঘরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৪১ পিএম;
নোয়াখালীতে বর্গাচাষীর ঘরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
নোয়াখালীতে বর্গাচাষীর ঘরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ


নোয়াখালী প্রতিনিধি নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বর্গাচাষীর বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গর্ভবতী নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীরা এ হামলার সাথে জড়িত।  

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরের দিকে ভুক্তভোগী মিতুল বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে, গত রোববার ৩১ মে বিকেলে এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় চারজনকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন বর্গাচাষী জাহাঙ্গীর আলম (৫৫), তার গর্ভবতী মেয়ে শারমিন আক্তার (২৭), মেয়ের জামাই মো. রুবেল (২৯) এবং জমির মালিক তৈইমুর রহমান ওরফে মুকুল (৩৯)। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বর্গা চাষীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, বিকেল চারটার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য ছায়েদুল হক, আলমগীর হোসেন ও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তিনটি বসতঘরে ভাঙচুর চালিয়ে টিনের বেড়া কেটে ফেলে বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

তার দাবি, হামলাকারীরা একটি ঘরে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয় এবং আরেকটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করে। হামলার সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা দুই বছরের এক শিশুকে তোষকসহ পাশের ডোবায় ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করেন। একই সময় পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।

জমির মালিক নাইমুর রহমান ওরফে মিতুল অভিযোগ করে বলেন, এওজবালিয়া মৌজার দিয়ারা ৬৯ খতিয়ানের ৪৮৮৫ দাগ এবং হাল ২৪১৫ খতিয়ানের ৭৬০৪ এবং ৭৬০৫ দাগের ভূমির কয়েকটি দাগভুক্ত জমির বৈধ মালিক ও দখলদার তারা। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজেদের জমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে আড়া কান্দি নির্মাণের কাজ চলাকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আওয়ামীলীগ সমর্থক সাবেক ইউপি সদস্য ছায়েদুল হকের নেতৃত্বে কামাল উদ্দিন, পারভেজ আলম, আলমগীর, সোলেমান, সবুজ মিয়া ও লিটনসহ ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল সেখানে হামলা চালায়।

তার অভিযোগ, হামলাকারীরা তিনটি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি একটি ঘর সম্পূর্ণ এবং আরেকটি ঘর আংশিক পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া গরুর খামার থেকে তিনটি গরু, ১৬ বস্তা সয়াবিনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সেভেটরেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছায়েদুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট জমিতে মিতুলদের কোনো মালিকানা নেই। জমি বিক্রির পরও তারা মালিকানা দাবি করছেন। বরং তারাই প্রতিপক্ষের বাড়ি ও লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রী রাম চন্দ্র ভট্রাচার্য বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।.

.

ডে-নাইট-নিউজ /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ