চুরির রহস্য উদঘাটনে নিজের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করেছিলেন ব্যবসায়ী মমিন উল্যাহ। কিন্তু পুরস্কারের বদলে কপালে জুটলো হাতকড়া। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলমের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের মুন্সিরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।.
সূত্র জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে চরমার্টিন ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকা থেকে সালাউদ্দিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তির একটি অটোরিকশা চুরি হয়। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) অটোরিকশাটি ব্যবসায়ী মমিন উল্যাহর গ্যারেজে দেখতে পান স্থানীয়রা। মমিন উল্যাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি স্বচ্ছতার সাথে জানান, কারা তার কাছে এটি বিক্রি করতে এসেছিল। তার দেওয়া তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে স্থানীয়রা চোর চক্রের ৪ সদস্য—জাবেদ, মনির হোসেন, মহিন ও মামুনুর রশিদকে শনাক্ত করে পুলিশে সোপর্দ করে।.
অটোরিকশার মালিক সালাউদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে আটককৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে মমিন উল্যাহর নাম ছিল না। কিন্তু পুলিশ চার্জশিট বা তদন্তের দোহাই দিয়ে তথ্যদাতা মমিন উল্যাহকেও অন্য আসামিদের সাথে আদালতে পাঠিয়ে দেয়।.
ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে মামলার বাদী সালাউদ্দিন বলেন:.
"মমিন উল্যাহ নির্দোষ। তার দেওয়া তথ্যের কারণেই আমি আমার গাড়ি ফেরত পেয়েছি এবং চোর ধরা পড়েছে। পুলিশ তাকে কেন আসামি করলো তা আমার বোধগম্য নয়। আমি তার মুক্তির জন্য আদালতে অনাপত্তিপত্র দিয়েছি।".
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউছার আহাম্মদ খান স্বীকার করেন যে, এজাহারে মমিনের নাম ছিল না। তবে তার দাবি, চোরাই মাল ক্রয়ের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, কমলনগর থানার ওসি মো. ফরিদুল আলম দায়সারাভাবে জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদেরই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।.
একজন তথ্যদাতাকে এভাবে হেনস্তা করায় মুন্সিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "মমিন উল্লাহর কারণেই চোর ধরা পড়লো, অথচ পুলিশ তাকেই চোর বানিয়ে দিলো। এটা অন্যায়।".
অবশেষে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) আদালত বাদীর অনাপত্তিপত্র ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে মমিন উল্যাহর জামিন মঞ্জুর করেন।.
পুলিশ সুপারের আশ্বাস: লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক জানান, নির্দোষ ব্যক্তিকে কেন আদালতে পাঠানো হলো সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেবেন এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।.
অপরাধ দমনে পুলিশকে সহায়তাকারীর এই পরিণতি সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতে তথ্য প্রদানে বিমুখ করে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।. .
ডে-নাইট-নিউজ / নাসির মাহমুদ (লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি):
আপনার মতামত লিখুন: