• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

প্রেমের টানে ফরাসি তরুণী লক্ষ্মীপুরে


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৪৩ পিএম;
প্রেমের টানে ফরাসি তরুণী লক্ষ্মীপুরে
প্রেমের টানে ফরাসি তরুণী লক্ষ্মীপুরে

আব্দুল মালেক নিরব, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : ভালোবাসা কোনো সীমান্ত মানে না, মানে না ভাষা কিংবা সংস্কৃতির ভিন্নতা—এই কথাটিকেই যেন বাস্তবে প্রমাণ করেছেন ফ্রান্সের এক তরুণী ও লক্ষ্মীপুরের এক তরুণ দম্পতি। .

প্রেমের টানে ফ্রান্স থেকে সুদূর লক্ষ্মীপুরের গ্রামে ছুটে এসেছেন ফরাসি তরুণী সিনথিয়া ইসলাম।.

 .

 .

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সমসের উদ্দিন খলিফা বাড়ির মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম রাসেল ২০১১ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে যান। পরে ২০১৩ সালে তিনি ফ্রান্সে পাড়ি জমান। সেখানেই পড়ালেখার সূত্রে সিনথিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় রূপ নেয় গভীর সম্পর্কে। পারিবারিক সম্মতিতে ২০১৭ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সিনথিয়া ইসলাম নাম ধারণ করে রাসেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সিনথিয়ার পূর্ব নাম ছিল ‘অম’। বর্তমানে তাদের সংসারে রয়েছে দুটি সন্তান—আমেনা ইসলাম (৬) ও আলিফ ইসলাম (৪)।.

 .

সম্প্রতি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে এসেছেন রাসেল। গ্রামীণ মেঠোপথে হাঁটা, হাওয়াই মিঠাই খাওয়া, স্থানীয়দের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠা—সবকিছুতেই মুগ্ধ ফরাসি এই তরুণী। গ্রামের পরিবেশ ও মানুষের আন্তরিকতায় তিনি আপ্লুত বলে জানান স্থানীয়রা। মেঘনা নদী এলাকা ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রসহ কক্সবাজার ভ্রমণের ছবিও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।.

 .

 .

রাসেল জানান, ২০২৪ সালে ‘রাসেল এন্ড সিনথিয়া’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি এবং ৬০ শতাংশ বিদেশি ফলোয়ার। আরব দেশগুলো থেকেই তাদের সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে।.

প্রেমের শুরুটা সহজ ছিল না। ভাষাগত সমস্যার কারণে শুরুতে গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে কথা বলতে হতো তাদের। এক বছরের চেষ্টায় এই বাধা কাটিয়ে ওঠেন তারা। সিনথিয়াও আগ্রহ নিয়ে বাংলা ভাষা শেখার চেষ্টা করছেন।.

 .

 .

রাসেল বলেন, ‘আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ, আর আমার স্ত্রী ও সন্তানদের আরেকটি দেশ ফ্রান্স। ভবিষ্যতে আমরা ছয় মাস বাংলাদেশে ও ছয় মাস ফ্রান্সে থাকার পরিকল্পনা করছি, যাতে সন্তানরা দুই দেশের সংস্কৃতিই জানতে পারে।’.

সিনথিয়া ফরাসি ভাষায় বলেন, বাংলাদেশে পরিবারের বন্ধন ও মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। বাংলা ভাষায় তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমার দেশ বাংলাদেশ।” শাশুড়ির হাতে তৈরি পিঠা তার প্রিয় খাবার।.

 .

ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারিবারিক বন্ধনে গড়া এই দম্পতির গল্প এখন লক্ষ্মীপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সীমান্ত, ভাষা আর সংস্কৃতির সব বাধা পেরিয়ে তাদের এই প্রেমের গল্প যেন বিশ্ববাসীর জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।.

.

ডে-নাইট-নিউজ /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ