• ঢাকা
  • বুধবার, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

স্বাক্ষর জালে বন্দি এক পরিবার, প্রভাবশালী আক্কাস-আলী গংদের গ্রাসে বিলীন চলাচলের রাস্তা


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:১২ পিএম;
স্বাক্ষর জালে বন্দি এক পরিবার, প্রভাবশালী আক্কাস-আলী গংদের গ্রাসে বিলীন চলাচলের রাস্তা
স্বাক্ষর জালে বন্দি এক পরিবার, প্রভাবশালী আক্কাস-আলী গংদের গ্রাসে বিলীন চলাচলের রাস্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামে রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের প্রতারণা এবং স্থানীয় সাহেব-সরদারদের রহস্যজনক পক্ষপাতিত্বে সপরিবারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বিল্লাল মিয়া নামের এক ব্যক্তি। আপসনামায় স্বাক্ষর নিয়ে এক পক্ষকে জায়গা বুঝিয়ে দিলেও বিল্লাল মিয়ার প্রতিশ্রুত রাস্তাটি দখলমুক্ত না করে উল্টো তাকে ‘আধ্যাত্মিক সান্ত্বনা’ দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরদারদের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় গ্রামজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা বিরাজ করছে।.

 .

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিল্লাল মিয়ার সাথে তাঁর আত্মীয় আক্কাস মুন্সী, আলী মিয়া ও কালন মিয়া গং-এর মধ্যে জমি বিনিময় (এওয়াজ বদল) নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় সাহেব-সরদাররা উদ্যোগ নেন এবং একটি লিখিত আপসনামা তৈরি করেন। সরদারদের উপস্থিতিতেই সব পক্ষ সেখানে স্বাক্ষর প্রদান করেন।.


​চুক্তি অনুযায়ী, বিল্লাল মিয়া তাঁর দখলীয় ৫৫ পয়েন্ট জায়গা কালন মিয়াদের ছেড়ে দেন যাতে তারা বাড়ি নির্মাণ করতে পারে। বিনিময়ে বিল্লাল মিয়াকে তাঁর বাড়িতে যাতায়াতের জন্য ৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। বিল্লাল মিয়া সরল বিশ্বাসে জায়গা ছেড়ে দিলে কালন মিয়ারা সেখানে দ্রুতগতিতে পাকা ঘর নির্মাণ করে স্থায়ী দখল নেয়। কিন্তু কালন মিয়ারা তাদের পাওনা বুঝে পেলেও বিল্লাল মিয়াকে তাঁর প্রতিশ্রুত রাস্তাটি আজও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী বিল্লাল মিয়া ন্যায়বিচারের আশায় সরদারদের কাছে গেলে শুরু হয় নতুন টালবাহানা। সরদাররা এখন বলছেন, "সব ঠিক আছে, জায়গা মাপা হবে। মাপা হলে তখন রাস্তা বুঝে পাবে।" অথচ বিবাদী পক্ষ ইতিমধ্যে ঘর তুলে জায়গা স্থায়ীভাবে দখল করে ফেলেছে। এমনকি সরদাররা এখন বিল্লাল মিয়াকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন— "আল্লাহ তোমারে অনেক জায়গা দেবে, এখন যেমন আছে তেমনই থাক।" ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন— যদি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এক পক্ষকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে অন্য পক্ষকে কেন রাস্তার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে? সরদাররা কেন কালন মিয়াদের অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ না করে উল্টো তাদের সময় দিচ্ছেন?
সরেজমিনে দেখা যায়, বিল্লাল মিয়ার বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি এখন প্রভাবশালী পক্ষ ও সরদারদের যোগসাজশে বন্ধের পথে। আগে যে পথ দিয়ে গাড়ি অনায়াসে যাতায়াত করতো, আজ সেই পথে মানুষের হাঁটার জায়গাটুকুও নেই। বিল্লাল মিয়ার ভাই অটোচালক মাসুদ মিয়া তাঁর গাড়ি নিয়ে বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না। এলাকাবাসীর মতে, বর্তমানে এই বাড়িতে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে বা কেউ মারা গেলে লাশের খাটিয়া বের করার মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই।.

 .


গ্রামের সচেতন মহল মনে করছেন, প্রবাসীদের আসা কিংবা জায়গা মাপার অজুহাত দিয়ে মূলত বিল্লাল মিয়াকে তাঁর মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সাহেব-সরদাররা এক পক্ষকে ঘর তোলার সুযোগ দিয়ে আদতে জুলুমকেই প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
​প্রতারণার শিকার বিল্লাল মিয়া জানিয়েছেন, সাহেব-সরদাররা যদি দ্রুত তাঁর প্রতিশ্রুত রাস্তা পুনরুদ্ধার করে না দেন, তবে তিনি স্বাক্ষরিত আপসনামা চ্যালেঞ্জ করে সরাইল থানা, উপজেলা প্রশাসন ও দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নেবেন। বিচারের নামে এই প্রহসন বন্ধ না হলে তিনি এই জুলুমের বিচার পেতে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।. .

ডে-নাইট-নিউজ /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ