স্টাফ রিপোটার কক্সবাজার : কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ার দীঘি বিটে সরকারি বনভূমি দখল, পাহাড় কেটে বিক্রি, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং অর্থ বাণিজ্যের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দারিয়ার দীঘি বিট কর্মকর্তা শিহাব ইরফান, রাজারকুল রেঞ্জ ট্রেনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমান নিবিড় এবং তাদের ঘনিষ্ঠ দালালচক্রের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলছে বনভূমি দখল ও চাঁদাবাজি।.
.
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দারিয়ার দীঘি বিটের পাইন বাগান, টোংগাডেবা, বাদিতলা ঘোনারপাড়া ও জামবাগান কাছিম আলীর ঘোনা এলাকায় প্রায় ১৫ একরের বেশি বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে সুপারি বাগান, পানের বরজ, কলা বাগান ও বিভিন্ন স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, এসব দখল ও পাহাড়ি জমি বিক্রির পেছনেও বিট কর্মকর্তা শিহাব ইরফান ও রেঞ্জ ট্রেনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমান নিবিড়ের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত।.
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিহাব ইরফান ও অভিউজ্জমান নিবিড়ের নামে একটি দালালচক্র নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করে। টাকা না দিলে উচ্ছেদের ভয় দেখানো হলেও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও দখল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে।.
এদিকে দারিয়ার দীঘি বিটের থোয়াইংগা কাটা এলাকায় দুই রোহিঙ্গা প্রবাসী পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দারিয়ার দীঘি বিট কর্মকর্তা শিহাব ইরফান, ফরেস্ট গার্ড নোমান এবং রাজারকুল রেঞ্জ ট্রেনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমান নিবিড়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী তসলিমা আক্তার দখলীয় (পিএফ) জায়গায় দালানঘর নির্মাণের অনুমতি চাইলে শিহাব ইরফান ও ফরেস্ট গার্ড নোমান এক বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে অভিউজ্জমান নিবিড়কে ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে তসলিমা আক্তার ও তার বড় বোনের দুই বাড়ি থেকে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।.
অন্যদিকে, আবুর দোকানের দক্ষিণ পাশে ঘোনার পাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখলকে কেন্দ্র করে মাওলানা আবদুল হামিদের কাছ থেকেও কয়েক ধাপে ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দারিয়ার দীঘি বিট কর্মকর্তা শিহাব ইরফান ও ফরেস্ট গার্ড নোমানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দু রাজ্জাকের কাছ থেকে প্রায় ২০ শতক দখলীয় বনভূমি ক্রয়ের পর বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে প্রথমে ফরেস্ট গার্ড নোমানের হাতে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে বাগান পাহারাদার রিদুয়ানের মাধ্যমে আরও ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অর্থ লেনদেনের বিষয়েও রেঞ্জ ট্রেনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমান নিবিড় অবগত ছিলেন।.
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজারকুল রেঞ্জের রেঞ্জ ট্রেনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমান নিবিড় ও দারিয়ার দীঘি বিট কর্মকর্তা শিহাব ইরফানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরিসরে বনভূমি দখল, পাহাড় বিক্রি ও অর্থ বাণিজ্য সম্ভব নয়। এ বিষয়ে দারিয়ার দীঘি বিট কর্মকর্তা শিহাব ইরফান কে এবং .
রাজারকুল রেঞ্জ ট্রেনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমান নিবিড় কে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। .
.
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দখলদার, দালালচক্র ও জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।. .
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: