মোঃ নুর হোসেন, কমলনগর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় একটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ নিয়ে সম্প্রতি ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'আরাফাত ট্রেডার্স' (অথবা আরাফার ট্রেডার্স)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রকল্পের কাজ নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি, বরং কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।.
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব কার্যক্রমের কারণেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে।.
আরাফাত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জানান,.
"কাজ শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় সব মালামাল ও নির্মাণ সরঞ্জাম বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ চলাকালীন সময়ে টানা ভারী বৃষ্টি এবং বর্ষার কারণে মাঠ ও নির্মাণ এলাকা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একই সময়ে বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলায় প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার স্বার্থে প্রতিযোগিতা শেষে কাজ শুরু করার অনুরোধ জানান।".
তিনি আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজের সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে।.
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওঠা অভিযোগে বিল উত্তোলনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনও কোনো বিল উত্তোলন করা হয়নি। ঠিকাদারের দাবি, কাজের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে সুরক্ষিত অবস্থায় জমা আছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং বিদ্যালয়ের খেলাধুলা শেষ হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিলের জন্য আবেদন করা হবে।.
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রকল্পের অগ্রগতি তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালামাল মজুতের তথ্য ইতিমধ্যে অফিসে জমা দিয়েছে।.
এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট না করে কাজটি সুন্দরভাবে শেষ হোক—এটাই তাদের মূল প্রত্যাশা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও আশ্বস্ত করেছে যে, বিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই তারা দ্রুত কাজ শেষ করবে।.
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সঠিক সমন্বয় থাকায় কমলনগরের পিইডিপি-৪ এর এই কার্যক্রম নিয়ে জনমনে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে এবং আস্থা ফিরে আসবে।.
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: