প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা নান্দাইল দিঘির পাড়ে অনুষ্ঠান ঘিরে এরই মধ্যে বিশাল প্যান্ডেল ও দৃষ্টিনন্দন স্টেজ নির্মাণের কাজ চলছে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রস্তুতিমূলক কাজ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে মূল অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
‘ইত্যাদি’র শুটিং উপভোগ করার জন্য দর্শকদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নির্দেশনা দিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠান মাঠে বসে দেখার কোনো পাস বা টিকিটের জন্য কারও সঙ্গে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। কারণ, এই অনুষ্ঠানের কোনো টিকিট বিক্রি হয় না। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ব্যক্তিদের মাঝে প্রবেশ পাস বিতরণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি দর্শকদের জ্ঞাতার্থে জানানো হয়েছে, মাঠে উপস্থিত থেকে দর্শকেরা মূলত অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দৃশ্যের ধারণকাজ বা শুটিং সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। এটি কোনো সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) নয়, সম্পাদনার পর এটি যথাসময়ে বিটিভিতে প্রচার করা হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইত্যাদি’র এই আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত। শুধু গ্যালারির নির্দিষ্ট চেয়ারে বসার জন্য অনুমোদিত পাসের প্রয়োজন হবে। তবে যাঁদের কাছে পাস নেই, তাঁদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। গ্যালারি এলাকার বাইরে মাঠের যেকোনো সুবিধাজনক স্থান থেকে সাধারণ দর্শকেরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে আনন্দময় এই শুটিং উপভোগ করতে পারবেন।
প্রিয় অনুষ্ঠান চোখের সামনে ধারণ করা হবে—এ খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
নিজেদের এলাকায় এমন একটি জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান হতে যাওয়ায় আনন্দে ভাসছেন নান্দাইল গ্রামের বাসিন্দারা। নান্দাইল গ্রামবাসীর পক্ষে নিজেদের উচ্ছ্বাস ও গর্বের কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন “ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘি আমাদের গ্রামের অহংকার। আজ ‘ইত্যাদি’র বদৌলতে আমাদের এই গ্রামের নাম ও দিঘির সৌন্দর্য পুরো দেশবাসীর কাছে নতুন করে পৌঁছে যাবে, এটি আমাদের জন্য চরম গর্বের বিষয়। হানিফ সংকেতসহ আগত অতিথিদের বরণ করে নিতে আমরা গ্রামবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। অনুষ্ঠানটি যেন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য আয়োজক ও প্রশাসনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।”
সড়াইল গ্রামের আবু জাকারিয়া মোমেন বলেন, “ছোটবেলা থেকে টিভিতে পরিবারের সবাই মিলে ইত্যাদি দেখে বড় হয়েছি। সেই অনুষ্ঠান আমাদের নিজ এলাকায় হচ্ছে, এটা ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। হানিফ সংকেত স্যারকে খুব কাছ থেকে একনজর দেখার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। পাস না পেলেও মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে হলেও আমরা শুটিং দেখব।”
জয়পুরহাটে প্রথমবারের মতো ‘ইত্যাদি’র মতো বড় মাপের অনুষ্ঠানের আগমন নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কালাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সজিবুল ইসলাম পাভেল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের জেলায় প্রথমবারের মতো ইত্যাদির শুটিং হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এর মধ্য দিয়ে কালাইয়ের ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সারা দেশের মানুষের কাছে নতুন করে পরিচিতি পাবে। আমরা কালাইবাসীর পক্ষ থেকে বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত ও তাঁর পুরো টিমকে আন্তরিক স্বাগত জানাই।”
জয়পুরহাটে এমন বৃহৎ আয়োজনের প্রশংসা করেছেন জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও। তবে আয়োজকদের প্রতি কিছুটা আক্ষেপও জানিয়েছেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার শামসুদ্দিন হীরা বলেন, “জয়পুরহাটে এ ধরনের একটি আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আমাদের জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সারা দেশের মানুষের কাছে চমৎকারভাবে ফুটে উঠবে।” তবে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই জেলা থেকে যাঁরা শিল্প-সংস্কৃতিতে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, আয়োজকেরা তাঁদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে বিষয়টি আরও সুন্দর ও অর্থবহ হতো।”
বিশাল এই আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, “ইত্যাদির শুটিং উপলক্ষে নান্দাইল দিঘি এলাকায় প্রচুর মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা ধারণা করছি। দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, যানজট নিরসন এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় আড়াই শত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। অনুষ্ঠানটি যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে জন্য আমরা আয়োজক ও দর্শকদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছি।”
জেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ইত্যাদি’র এই বিশাল শুটিং উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রেখে উপভোগ করার জন্য আয়োজক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।