
জীবনযাপন ডেস্ক | ডে-নাইট নিউজ শীতের আগমনের সঙ্গে বাঙালির খাবারের তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নেয় খেজুরের রস ও গুড়। আর খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র স্বাদের কথা বললে সবার আগে উঠে আসে যশোর জেলার নাম। দীর্ঘদিনের ইতিহাস, উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক পরিচিতির কারণে যশোরকে বলা হয় বাংলাদেশের ‘খেজুরের গুড়ের রাজধানী’।
‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’—প্রচলিত এই প্রবাদেই জেলার সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড়ের নিবিড় সম্পর্ক ফুটে ওঠে। যশোর জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে খেজুরের রস, গুড় ও পাটালি। একসময় যশোরের গুড়ের বাণিজ্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপেও পৌঁছেছিল।
ঐতিহাসিক সতীশ চন্দ্র মিত্রের ‘যশোহর-খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ১৯০০-০১ সালে পূর্ববঙ্গে উৎপাদিত খেজুরের গুড়ের বড় একটি অংশ আসত যশোর থেকে। ওই বছর জেলাটিতে উৎপাদিত হয়েছিল ১৭ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ মণ গুড়।
যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুরেও রয়েছে খেজুরের গুড় উৎপাদনের ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৮৬১ সালে সেখানে খেজুরের গুড় থেকে ব্রাউন সুগার তৈরির একটি কারখানা স্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই কারখানায় উৎপাদিত চিনি ইউরোপে রপ্তানি করা হতো।
বর্তমানে যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরি হয়। বিশেষ করে যশোর সদর, মনিরামপুর, শার্শা, চৌগাছা ও বাঘারপাড়া এলাকায় খেজুরগাছের আধিক্য রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রতিবছর কয়েক হাজার মেট্রিক টন গুড় ও পাটালি উৎপাদিত হয়।
খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্যকে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে জেলা ব্র্যান্ডিংয়েও পণ্যটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘নানা রঙের ফুলের মেলা, খেজুর গুড়ে যশোর জেলা’—এই স্লোগানের মাধ্যমে ফুলের পাশাপাশি খেজুরের গুড়কেও যশোরের পরিচিতির অংশ করা হয়েছে।
ইতিহাস, ঐতিহ্য, উৎপাদন ও স্বাদের বৈশিষ্ট্যে যশোর তাই বাংলাদেশের ‘খেজুরের গুড়ের রাজধানী’ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।
ডে-নাইট নিউজ | সত্য ও সুন্দরের খোঁজে