প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং
কালাইয়ে মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় একটি মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা চেয়ে কালাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম কুজাইল গ্রামে ‘পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদ্রাসা’ নামের প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন একই গ্রামের তাজমুল বিন মোফাজ্জল ওরফে সাদ্দাম (৩৫)। গ্রামবাসীর অভিযোগ, ওই মাদ্রাসায় নিয়মিত কোনো শিক্ষাকার্যক্রম চলে না। নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, শিক্ষার্থীর সংখ্যাও খুবই কম। বর্তমানে মাত্র চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী দিয়ে নামমাত্র প্রতিষ্ঠানটি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক (৬০) তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না দিয়ে পরিচালক নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চরম অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক তাঁদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। সর্বশেষ গত ১৯ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে মাদ্রাসার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তাজমুল স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাঁদের হুমকি দেন। এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে লিখিত অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা ও জিহাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন মাদ্রাসার পরিচালক তাজমুল বিন মোফাজ্জল। তিনি বলেন, ‘তাঁরা গত সাত বছর ধরেই আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দিয়ে আসছেন। এরা মূলত ধর্মবিরোধী। আমি তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেব।’
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। যেহেতু পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, সেটির তদন্ত হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডে-নাইট-নিউজ